শিরোনাম
চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলাচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

হারিয়ে যাচ্ছে ছাতা মেরামত পেশা, তবুও আঁকড়ে আছেন সায়ের আলী

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র—বর্ষার এ সময়ে কখনো ঝুম বৃষ্টি, আবার কখনো মেঘলা আকাশ। গ্রামাঞ্চলে বৃষ্টির দিনে ছাতা হয়ে ওঠে মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে ছাতা ব্যবহারের ধরন। একসময় নষ্ট ছাতা মেরামত করে বছরের পর বছর ব্যবহার করলেও এখন অনেকেই পুরোনো ছাতা ফেলে নতুন ছাতা কিনছেন। ফলে কমে গেছে ছাতা মেরামতের কাজ, সংকুচিত হয়েছে এ পেশার সঙ্গে জড়িত কারিগরদের কর্মসংস্থান।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বেনীপুর সাপ্তাহিক শনিবারের হাটে বর্ষার দিনে দেখা মেলে হারিয়ে যেতে বসা এই পেশার এক কারিগরের। হাটের এক পাশে বসে পুরোনো ছাতা মেরামতে ব্যস্ত ৬৩ বছর বয়সী সায়ের আলী। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাতা মেরামত করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা সায়ের আলী ভাবিচা, চন্দননগর ও হাজিনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাটে গিয়ে ছাতা মেরামত করেন। সপ্তাহের সাত দিন সাতটি হাটে বসে কাজ করেন তিনি।

তবে সায়ের আলীর শুরুর সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের ব্যবধান অনেক। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন এই কাজ শুরু করি, তখন আমার পাশে প্রায় ১২-১৩ জন ছাতার কারিগর বসতেন। শুধু স্থানীয় কারিগর নয়, ফরিদপুর থেকেও দুই-তিনজন নিয়মিত এই কাজ করতে আসতেন। তখন ছাতা মেরামতের কাজের অনেক চাহিদা ছিল। সপ্তাহে প্রায় ২০০ টাকা আয় হতো। সেই টাকা দিয়ে সুন্দরভাবেই সংসার চলত।’

তিনি বলেন, ‘কাজের চাপ এত বেশি ছিল যে অনেক সময় সন্ধ্যার পর কুপি জ্বালিয়েও ছাতা মেরামত করতে হয়েছে। তখন ছোটখাটো ছাতার কাজ করতে এক-দুই টাকা খরচ হতো। বাজারে ‘সংকর’ ও ‘শরিফ’ কোম্পানির ছাতা বেশি পরিচিত ছিল। ছাতার দাম ছিল ৩০-৪০ টাকার মতো।’

সায়ের আলীর ভাষ্য, আগে মানুষ একটি ছাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার আগপর্যন্ত ব্যবহার করতেন। ছাতা নষ্ট হলে নতুনটি না কিনে বারবার মেরামত করাতেন। ফলে একই ছাতা পাঁচ-ছয়বার পর্যন্ত কারিগরের কাছে মেরামতের জন্য আসত। তিনি নিজেও দিনে ৩০-৪০টি ছাতা মেরামত করতেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। পাশাপাশি বাজারে সহজেই নতুন ছাতা পাওয়া যাওয়ায় নষ্ট ছাতা মেরামতের পরিবর্তে নতুন ছাতা কেনার প্রবণতা বেড়েছে। এতে ছাতা মেরামতের কাজও কমে গেছে।

সায়ের আলী বলেন, ‘আগে যেখানে দিনে ৩০-৪০টি ছাতার কাজ করতাম, এখন সেখানে আট-দশটি ছাতা আসে। আমার সঙ্গে যারা কাজ করতেন, তাঁদের অধিকাংশই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। আশপাশে এখন আমিই একমাত্র এই কাজটি চালিয়ে যাচ্ছি।’

কাজ কমলেও বেড়েছে মেরামতের পারিশ্রমিক। আগে যে কাজের জন্য পাঁচ টাকা নেওয়া হতো, এখন একই কাজের জন্য ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত নিতে হয়। বর্তমানে সপ্তাহে প্রায় এক থেকে দুই হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এই আয় দিয়েই সংসার চালাচ্ছেন।

বেনীপুর সাপ্তাহিক হাটে সায়ের আলীর কাছে ছাতা মেরামত করাতে আসা জব্বার আলী বলেন, ‘বৃষ্টির সময় ছাতা ছাড়া চলাফেরা করা কঠিন। ছোটখাটো সমস্যা হলেই নতুন ছাতা না কিনে মেরামত করে নেওয়া ভালো। এতে খরচও কম হয়, আবার পুরোনো ছাতাটাও ব্যবহার করা যায়।’

হাটে আসা রুহুল আমিন বলেন, ‘আগে দেখতাম হাটে ছাতা মেরামতের কারিগর অনেক থাকত। এখন প্রায় দেখাই যায় না। মানুষ এখন ছাতা নষ্ট হলে অনেক সময় মেরামত না করে নতুন ছাতা কিনে নেয়। তাই এই পুরোনো পেশাটাও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন

আশুলিয়ার ইয়ারপুরে চেয়ারম্যান পদে ব্যারিস্টার আজিজুল মীর

বর্ষার দিনে বেনীপুর সাপ্তাহিক হাটে ছাতা হাতে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই নিজের ছোট্ট জায়গাটিতে বসে কাজ করে চলেন সায়ের আলী। বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে এলেও থামেনি তাঁর হাতের কাজ। একটি ছাতার ভাঙা শিক, ছেঁড়া কাপড় কিংবা নষ্ট হাতল ঠিক করতে করতে তিনি যেন ধরে রেখেছেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এক পুরোনো পেশার স্মৃতি।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাতা মেরামত করে আসা সায়ের আলী এখন শুধু একজন কারিগর নন, বরং সময়ের পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী। বর্ষা এলেই তাঁর ছোট্ট কর্মস্থলে ছাতার আনাগোনা বাড়ে—তবে আগের মতো নয়। কাজ কমেছে, কমেছে কারিগরের সংখ্যাও; তবুও পুরোনো এই পেশাটিকে আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: