মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বেলা ১২.৩০ মিনিটে খালিশপুর ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মো: ইব্রাহিম সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে খুলনা প্রেসক্লাবে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এস, এম জাফর সাদিক তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে এই প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন যা মিথ্যা ও বানোয়াট।
তিনি আরও বলেন, গত অন্তর্বর্তী কালিন সরকারের সময় গঠিত কমিটি যা ছিল স্থানীয় একটি সংগঠনের প্রভাবে তৈরী, উক্ত কমিটিতে সভাপতি ও বিদ্যোৎশাহী সদস্য জামাত ইসলামী বাংলাদেশ-এর রোকন, এটা আমার জানা ছিল না। উক্ত কমিটির আরও সদস্য উক্ত সংগঠনের সদস্য হওয়ায় তারা অল্প দিনে মাদ্রাসার মধ্যে একটি গ্রুপ তৈরী করতে সমর্থ হয়। এর পরে যখন গত ২৪/০১/২০২৫ তারিখে একজন ল্যাব সহকারী নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিই তখন সভাপতি তার পছন্দের লোকগুলিকে নিয়ে একটি নিয়োগ বাছাই কমিটি ও নিয়োগ কমিটি তৈরী করেন। এমনকি বিএনপি সমর্থনকারী একজন সদস্য উক্ত কমিটির এক নং সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে কোন জায়গায় রাখা হয় নাই।
উক্ত বাছাই কমিটির দুইজন সদস্য শাহাজাহান আলি (বিদ্যোৎশাহী সদস্য) ও আফছানা খাতুন (শিক্ষক সদস্য) বিভিন্ন প্রার্থীর সাথে যোযাযোগ করে আর্থীক লেনদেনের বিষয়টি চুড়ান্ত করে পরীক্ষার দিন একজন প্রার্থীকে বড় অংকের টাকা সহ হাজির করেন। যা আমাকে একেবারে না জানিয়ে করেন। এমন কি ডিজির সম্মানিত প্রতিনিধি শাহাজাহান (বিদ্যোৎশাহী সদস্য) -এর বিশেষ পরিচিত/আত্মীয় হওয়ায় তাকে বিষেশভাবে মূল্যায়ন না করে তার নিকট হতে ১টি মাত্র প্রশ্ন নেন। সভাপতি, বিদ্যোৎশাহী সদস্য, ও শিক্ষক সদস্য আফছানা খাতুন পরীক্ষার অধিকাংশ প্রশ্ন করেন। এমনকি ডিজির প্রতিনিধি আফসোস করে বলেন আমি ঢাকা থেকে আসলাম অথচ আমাকে একটি মাত্র প্রশ্ন করতে দিলেন। এমনিভাবে পরীক্ষা নিয়েও যখন তাদের কাংখিত প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় ২য় হয় এবং অন্য একটি ছেলে ১ম হল তখন অভিভাবক সদস্য আলমগীর হোসেন সাহেব ১ম স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন সভাপতি তাকে বলেন ২য় স্থান অধিকারী ১০,০০০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা নিয়ে ঘুরছে, তাকেই নিতে হবে। অন্য দিকে ঐ বোর্ডের সদস্য আফছানা খাতুন আমার অফিস সহকারীকে বলেন ২য় স্থান অধিকারী ১০,০০০০০/-(দশ লক্ষ) টাকা দিতে রাজি আছে। যে ১ম হয়েছে সে কোন টাকা দেবে না।
পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকারীকে ০৬ নম্বর দিয়ে এবং ২য় স্থান অধিকারীকে ১০ নম্বর দিয়ে প্রথম স্থান দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমাকে বাধ্য করা হয় (কপি সংযুক্ত)। আর্থীক অনিয়মের প্রতিবাদে ১নং অভিভাবক সদস্য মহা-পরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন এবং তিনিসহ ০৩জন অভিভাবক সদস্য ও ০১জন শিক্ষক সদস্য মোট ০৪ জন সদস্য পদত্যাগ করেন (কপি সংযুক্ত)। বিষয়টি মাদ্রাসা বোর্ডকে অভিযোগসহ অবহিত করা হলে বোর্ড কর্তৃক সরেজমিনে তদন্ত করা হয় এবং তদন্তে সভাপতিকে আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও তার উস্কানিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কোন্দলের বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় গত ০৯/০৯/২০২৬ তারিখ কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন (কপি সংযুক্ত)। এরই প্রেক্ষিতে সভাপতি সাহেব ক্ষুব্ধ হয়ে তার দলীয় মনোভাবাপন্ন কিছু শিক্ষক নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, অসত্য তথ্য প্রকাশ করেন, আমি এর প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
(১) আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে, যা একেবারেই অসত্য। আমার মাদ্রাসায় সকল হিসাব-কিতাব আয়নার মত স্বচ্চ। যে কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় যাচাই করে দেখতে পারে।
(২) আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে ২টি আইডি কার্ড, এটি একেবারে অসত্য। মিলে আমার কোন আইডি কার্ড দেওয়া নাই এবং একই সাথে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহন করি নাই।
যখন মাদ্রাসাটি এমপিও ভূক্ত হয়, তখন আমি মিল থেকে বেতন-ভাতা গ্রহন করতাম বিধায় মাদ্রাসা থেকে বেতন-ভাতা না নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট অবৈতনিক সুপার হিসেবে থাকার আবেদন জানাই এবং কর্তৃপক্ষ এটি গ্রহন করেন (কপি সংযুক্ত)। (৩) আমার চেয়ারে আমার জামাইকে বসাবো-এটি অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই না, কারণ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নীতীমালা অনুযায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকদের মধ্য হতে জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।
(৪) অত্র এলাকায় বসবাসকারী অভিভাবকগন দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ। মাদ্রাসার নির্ধারিত ফি কমানোর জন্য অধিকাংশ সময় আমার নিকট আবেদন করে থাকেন। তার উপর অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়টির অভিযোগ দুরভীসন্ধিমূলক।
আমার অফিস সহকারী বিগত ২৮ বছর যাবৎ তার দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে কোন ছাত্র বা অভিভাবকদের নিকট হতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোন অভিযোগ আমার কাছে আসে নাই। কিন্তু সভাপতি সাহেব ব্যক্তি আক্রোসে তাকে একটি শোকজ করান, যা তদন্তাধীন আছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব