এমপির সমাবেশস্থল থেকে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের সমাবেশস্থল থেকে ককটেল সাদৃশ্য একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। কালো টেপে মোড়ানো ওই বস্তুটি সমাবেশস্থলের মঞ্চের সামনে পড়ে ছিল। এ সময় এমপি আবদুল আজিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে মঞ্চেই বসে ছিলেন। সমাবেশে আসা মানুষদের মধ্যে মুহুর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৪ টার দিকে গুরুদাসপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এমপির সমাবেশ শুরু হয় বিকেল তিনটা থেকে। গুরুদাসপুরের ছয়টি ইউনিয়ন ও বড়াইগ্রাম উপজেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। ককটেল সাদৃশ্য ওই বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় আনার কথা জানান গুরুদাসপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের দলীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয় থানা মোড়ের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সমাবেশে যোগ দিতে তার কর্মী সমর্থকেরা ওই মাঠে এসে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে সমাবেশে যোগ দেওয়া লোকজন ককটেল সাদৃশ্য বস্তুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে তিনি নিজেই গিয়ে ওই বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। বস্তুটি আসলে কি তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপির ছেলে মিন্টু কারাগারে আছেন। এমপির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় এবং জেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা জেলা বিএনপির সদস্য মশিউর রহমান বাবলু ও আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা সুজাউদ্দৌলা সুজন এমপি আজিজের ঘোর বিরোধিতা করেন।
রাজনৈতিক চাপে পড়ে ২৯ অক্টোবর থেকে এমপি আজিজ সপরিবারে নির্বাচনী এলাকার বাহিরে চলে যান। সবশেষ তিনি শুক্রবার সকালে আবারো এলাকায় ফিরেন।
সূত্র বলছে, এলাকায় ফিরে নিজের অস্তিত্বের জানান দিতেই এমপি আজিজ রোববার বিকেলে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে সমাবেশের ডাক দেন। একই দিন একই স্থানে সমাবেশের ডাক দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা সুজাউদ্দৌলা সুজন। এই সমাবেশ ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে চাপা উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এমপি আব্দুল আজিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে সমরেশ করলেও বিএনপি'র অপরপক্ষ সমাবেশ করতে আসেনি। তবে এমপি সমবেশস্থলের সামনে থেকে কালো টেপ মোড়ানো ককটেল সাদৃস্য বস্তু পাওয়া যায়।
তবে এ ব্যাপারে এমপি আব্দুল আজিজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া যায়নি ছাত্রদল নেতা সুজাউদ্দৌলা সুজনেরও।
গুরুদাসপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ককটেল সদস্য বস্তুটি আসলে কি টা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। কারা এটি ফেলে গেছেন তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব