সান্তাহারে শিশু রাখার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে কানের সোনার দুলের জন্য শিশু রাখাকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টায় চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সর্বস্তরের মানুষেরা এখন হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করছেন। সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের রেলগেট চত্বরে এলাকাবাসী প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। গত শুক্রবার বিকেলে শিশু রাকিকা আক্তার রাখার (৬) বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে দাফন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যার রায় দ্রুত শেষ হয়েছে। ঠিক তেমনি রাখার হত্যাকারীদের রায়ও দ্রুত কার্যকর করতে হবে। রাখার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান বক্তারা। রায় দ্রুত কার্যকর করা না হলে সমাজে অপরাধ বাড়তেই থাকবে। সেইসাথে আগামী দিনে আরো কঠোর কর্মসূচীর হুঁসিয়ারী উচ্চারণ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- জেলা বিএনপির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাহফুজুল হক টিকন, সান্তাহার পৌর যুবদলের আহবায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর ওয়াহেদুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক শাহজাহান আলম স্বপন, ছাত্রদল নেতা আকাশ, ফাহমিদ, নূরানী ইসলামিয়া একাডেমী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মোমিন, নিহত রাখার ফুপু লিপি বেগম, প্রতিবেশি খাদিজা ও রমনি আক্তার প্রমূখ।
অন্যদিকে, গতকাল সকালে পৌর শহরের ইয়ার্ড কলোনী এলাকায় শিশু রাখার মাদরাসা নূরানী ইসলামিয়া একাডেমী চত্বরে দুই ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করে ওই মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মচারী ও সাহেব পাড়াবাসী।
উল্লেখ্য, আলোচিত শিশু রাকিকা আক্তার রাখার সোনার দুল হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের আরো একটি কারণ। শনিবার বগুড়ার আদমদীঘি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মামলার ২ নম্বর আসামি বন্যা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে বিচারক তার দেওয়া জবানবন্দী ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ভোরের আকাশ/ র.ই