শিরোনাম
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানঅনলাইন সহিংসতার শিকার ৪৫.৫ শতাংশ নারী, পুলিশের সহায়তা নেন ৪.৬ শতাংশমহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎরূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদনচিকিৎসায় খরচ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ: গবেষণাআমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিবসরকারি চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তচার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকারজাপান সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানঅনলাইন সহিংসতার শিকার ৪৫.৫ শতাংশ নারী, পুলিশের সহায়তা নেন ৪.৬ শতাংশমহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎরূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদনচিকিৎসায় খরচ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ: গবেষণাআমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিবসরকারি চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তচার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার

মানিকগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ডিউটি ফাঁকির অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ডিউটি ফাঁকির অভিযোগ
মানিকগঞ্জে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ডিউটি ফাঁকির অভিযোগ

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও  হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার এমদাদুল হক ইমন এর বিরুদ্ধে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অন ডিউটি থাকা অবস্থায় ঘিওর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থিত ঘিওর আধুনিক হাসপাতাল নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি সিজারিয়ান অপারেশন করেন।

জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯ টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও  হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ছিলেন ডা. এমদাদুল হক। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বুধবার দুপুরে ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের 'অন কলে' সেখানে হাজির হন। সেখানে ইতি (২০) নামের এক রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এসময় অত্যন্ত স্পর্শকাতর অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে ডা. পুতুলের নাম উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে খোঁজ  নিয়ে জানা যায় পুতুল নামের ওই মহিলা মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১২০ নম্বর কক্ষে রোগীদের সিরিয়াল দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ডাক্তার এমদাদুল হকের সাথে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চশিক্ষিত হলেও চিকিৎসাশাস্ত্রে তিনি অদক্ষ। 

ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট আলো আক্তার, সিনিয়র নার্স বাসনা ও পরিচালক সাব্বির হোসেন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ডাক্তার এমদাদ ও একজন মহিলা প্রাইভেট কারে এসে ওটি রুমে চলে যান এবং সিজারিয়ান অপারেশন শেষে সন্ধ্যার আগেই বের হয়ে যান।

ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হোসেন বলেন, ইতি নামে এক প্রসুতির অপারেশনের জন্য ডাক্তার এমদাদুল হককে মোবাইল ফোনে অবহিত করি। তিনি এ্যানাস্তেসিয়া চিকিৎসক ডাক্তার পুতুলকে সাথে নিয়ে  আমার হাসপাতালে আসেন এবং অপারেশন শেষে চলে যান।

মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাক্তার এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে অপারেশন করতে স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুতুল নামে কোন অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক মানিকগঞ্জে কর্মরত নাই। এছাড়া ঘিওর আধুনিক হাসপাতালের লাইসেন্স ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১২০ নং কক্ষের ডাক্তার সুবর্ণার সাথে কক্ষে রোগীদের সিরিয়াল দেওয়ার কাজে নিয়োজিত পুতুল জানান, বিকেলে তিনি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি প্রাইভেটকারে চিকিৎসক এমদাদুল হক ইমনের সঙ্গে ঘিওর আধুনিক হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক এমদাদুল অপারেশন করেন। এসময় তিনি অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।

পুতুল আরও জানান, চিকিৎসক এমদাদুল তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট (সহকারী) হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। অপারেশন শেষে তারা একই প্রাইভেটকারে ফিরে আসেন। পরে তাকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেওয়া হয়।

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার এমদাদুল হক ইমন অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘিওর আধুনিক হাসপাতালে যাইনি। কোন অপারেশন করিনি।  

আরও পড়ুন

বাসাইলে ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের জরিমানা

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, অন ডিউটি অবস্থায় বাইরের কোন হাসপাতালে চিকিৎসা সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া চিকিৎসক ছাড়া অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, ডিউটি চলাকালীন সময়ে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদান চাকুরী বিধি লঙ্গনের সামিল। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোরের আকাশ/আ.র

শেয়ার করুন: