ভূমি সেবা মেলায় তহশীলদার ঘুমন্ত, ক্ষোভে ফিরলেন সেবাপ্রার্থীরা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে “ভূমি সেবা মেলা ২০২৬” আয়োজনকে ঘিরে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) আক্তারুল ইসলাম সেলিমের বিরুদ্ধে।
মেলার সমাপনী দিনে বেলা ১১টা পর্যন্ত কর্মকর্তাকে ‘ঘুমন্ত’ অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা; সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার শেষ দিনে অফিসের সামনে বেলুন, ফেস্টুন ও কাপড় দিয়ে সাজসজ্জা করা হলেও সেবাদান কার্যক্রমে ছিল চরম শিথিলতা।
অভিযোগ রয়েছে, সকাল ১০টার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিস কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন।
সেবাপ্রার্থী হোছন অভিযোগ করে বলেন, “এসব শুধু লোক দেখানো আয়োজন। তহশীলদার প্রায়ই দেরিতে অফিসে আসেন। এসে পান চিবিয়ে বসে থাকেন। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না।”
আরেক সেবাপ্রার্থী আলী আকবরপাড়া এলাকার মুখতার আহমদ বলেন, “সকাল ১০টার আগে অফিসে এসেছি। এখন ১১টা পার হয়ে গেছে, অথচ কর্মকর্তার দেখা নেই। অফিস প্রধান যদি এত দেরিতে ওঠেন, তাহলে মানুষ সেবা পাবে কীভাবে?”
টেকনাফ সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক মমতাজুল ইসলাম মনু বলেন, “সকাল ১০টায় ভূমি সেবা মেলা দেখতে এসে দেখি সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তখনও ঘুমিয়ে। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী আক্তারুল ইসলাম সেলিম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অফিসে অনিয়ম বেড়েছে। নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর হ্নীলা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আক্তারুল ইসলাম সেলিম। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, দেরিতে অফিসে আসা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নানা অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম সেলিম বলেন, “আমি রুমের ভেতরে ছিলাম। প্রয়োজনে আমাকে ডেকে দিলেই হতো।” এ সময় তিনি আরও বলেন, “আমাকে ঘুম থেকে ডেকে দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।”
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভোরের আকাশ/ র.ই