টেকনাফে বিদ্যালয়ে তালাবদ্ধ; শোকজ ১১ শিক্ষক

টেকনাফে দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তালাবদ্ধ পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী। এ সময় বিদ্যালয় দুটিতে কোনো শিক্ষক, কর্মচারী কিংবা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল না বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুই বিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের "হরিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়" ও "লাতুরীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়" পরিদর্শনে যান ইউএনও। সেখানে গিয়ে তিনি বিদ্যালয় দুটির শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন ইউএনও। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ দুই বিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও কর্তব্যে অবহেলার শামিল। এ ঘটনায় কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষক হলেন আলী আকবর সাজ্জাদ ও নাসিমা আক্তার।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, টেকনাফের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষক নিয়ম না মেনে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং দুপুরের পর পাঠদান না করিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন এমন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় দুটিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।
ইউএনও এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জবাব সন্তোষজনক না হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেক সময় শিক্ষকরা নিয়ম না মেনে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং দুপুরের পর ছুটি দিয়ে চলে যান এমন অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ইউএনও সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। ১১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এখন থেকে সবাই নিয়ম মেনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন।’
ভোরের আকাশ/ এনউব