ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুর বাবা কবির
বাউফলে পিতৃত্বের বিরোধের অবসান

পটুয়াখালীর বাউফলে ছয় মাসের শিশুসন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করা নিপা আক্তারের (২৩) দাবির পক্ষে মিলেছে ডিএনএ পরীক্ষার ফল।
পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশু আরিয়ানের জৈবিক বাবা হিসেবে কবির হাওলাদারকে শনাক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পরীক্ষার প্রতিবেদনে কবির হাওলাদারকে শিশুটির জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে নিপা আক্তার, তাঁর শিশুসন্তান আরিয়ান ও কবির হাওলাদারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিপার রক্ত, শিশুটির মুখের ভেতরের কোষের দুটি নমুনা (বাক্কাল সোয়াব) এবং কবির হাওলাদারের রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক সিআইডিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে কবির হাওলাদারকে শিশুটির জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়াবাগা গ্রামে কবির হাওলাদারের বাড়িতে ছয় মাসের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান নেন নিপা। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিয়ের আশ্বাসে কবিরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেই সম্পর্কের সূত্রে জন্ম নেয় শিশুটি।
সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার দাবিতেই তিনি সেখানে অনশন শুরু করেন। নিপার বাড়িতে আসার খবর পেয়ে কবির ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ঘটনাটি সে সময় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিপার আগে জহির নামের এক ইটভাটা শ্রমিকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তাঁদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর স্বামী কাজের জন্য বাড়ির বাইরে গেলে প্রতিবেশী কবির হাওলাদারের সঙ্গে নিপার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গেছে।
নিপার অভিযোগ, কবির তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে তাঁর স্বামী বিবাহবিচ্ছেদ করেন।
এরপর নিপা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির পিতৃত্ব ও স্বীকৃতি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তিনি আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি কবিরের বাড়িতে অবস্থান নেন।
এ ঘটনায় নিপার বাবা জুলফু হাওলাদারও নাতির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে বাউফল থানায় মামলা দায়ের হলে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক সিআইডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জৈবিক পিতৃত্ব শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে শিশুটির আইনগত স্বীকৃতি, ভরণপোষণসহ অন্যান্য অধিকার নিশ্চিতের বিষয়গুলো এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
ভোরের আকাশ/রই