মাদক সেবনের দায়ে দণ্ড, যুবদল নেতা আব্দুল হাই বহিষ্কার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড পাওয়ার পর উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি আব্দুল হাই কায়সারকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে’ কুমিল্লা উত্তর জেলার আওতাধীন দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি আব্দুল হাই কায়সারকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেবিদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামারে অভিযান চালিয়ে আব্দুল হাই কায়সারসহ তিনজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেন।
আব্দুল হাই কায়সারকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করায় বিধি অনুযায়ী তাঁর কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ে। ফলে মোট ২১ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আব্দুল হাই কায়সার (৫০) দেবিদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বজলুর রহমান মাস্টারের ছেলে। তিনি দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্রীয় যুবদলের নজরে আসে এবং একই রাতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সভাপতি নুরুজ্জামান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দলের যে কাউকে শৃঙ্খলাবিরোধী বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে দল ও সংগঠন থেকে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা