শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

খাগড়াছড়িতে প্রথম প্রকাশিত ‘প্রকৃতি’র মোড়ক উন্মোচন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

পার্বত্য চট্টগ্রামের অনন্য জীববৈচিত্র্য, বন, পাহাড়, নদী-ছড়া ও স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটির প্রথম প্রকাশনা ‘প্রকৃতি’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটির প্রতিষ্ঠাতা সবুজ চাকমা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘প্রকৃতি’ শুধু একটি প্রকাশনা নয়; পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, বন ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দীর্ঘদিনের সহাবস্থান, পরিবর্তিত পরিবেশগত বাস্তবতা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ।

‘প্রকৃতি’র সম্পাদক সমীর মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা, পৌর প্রশাসক রুমানা আক্তার, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রভাংশু ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং ও পিটাছড়ার প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ককে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পাহাড়ের বন, ঝিরি-ছড়া, নদী, মাটি, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে। উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে সেই উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে।

তিনি বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ প্রজন্মকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রকৃতি সংরক্ষণকে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জীববৈচিত্র্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি বনভূমি ধ্বংস হলে শুধু গাছপালা কমে না, এর সঙ্গে অসংখ্য প্রাণী, পাখি, কীটপতঙ্গ ও উদ্ভিদের আবাসস্থলও নষ্ট হয়। পাশাপাশি মাটি ক্ষয়, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও স্থানীয় জলবায়ুতেও এর প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, সংরক্ষণ ও উন্নয়নকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে পরিবেশসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়ে কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবেশ, পানি, বন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষায় তথ্যভিত্তিক গবেষণা, স্থানীয় জ্ঞান সংরক্ষণ ও তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, পাহাড়ের বন শুধু কাঠের উৎস নয়; এটি পানি, মাটি, বন্যপ্রাণী ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। বন সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া সম্ভব।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রভাংশু ত্রিপুরা বলেন, প্রকৃতি রক্ষা মানে শুধু গাছ রক্ষা নয়; প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কও রক্ষা করা। পাহাড়ের মানুষের জীবনযাপন, লোকজ জ্ঞান ও প্রকৃতিনির্ভর সংস্কৃতির মধ্যেও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।

খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত করে সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাকা প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের জ্ঞান সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বন উজাড়, অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, পাহাড় কাটা, ছড়া ও জলাধার দখল বা দূষণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা কারণে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য চাপের মুখে রয়েছে। তাই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।

বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটির প্রতিষ্ঠাতা সবুজ চাকমা বলেন, ‘প্রকৃতি’ প্রকাশনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা তৈরি করতে চান তারা। প্রকৃতিকে জানা, ভালোবাসা ও সংরক্ষণে মানুষকে সম্পৃক্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন

হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দেশসেরা ডিএনসিসি: প্রশাসক

তিনি গবেষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করার আহ্বান জানান।

মোড়ক উন্মোচন শেষে অতিথিরা প্রকাশনাটির সাফল্য কামনা করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অনন্য প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভোরের আকাশ/জেআ

পার্বত্য চট্টগ্রামখাগড়াছড়ি

শেয়ার করুন: