৩ হাজার ৫০০টির বেশি সাইটে উন্নয়ন , ৪জি অভিজ্ঞতা বেড়েছে ২০ শতাংশ , বিদ্যুৎ খরচ কমেছে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ
চট্টগ্রাম অঞ্চলে রবির ৪জি নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন সম্পন্ন

চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ৪জি নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন কার্যক্রম শেষ করেছে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচালিত বড় পরিসরের নেটওয়ার্ক রূপান্তর প্রকল্পের শেষ ধাপও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রবির দাবি, আধুনিকায়নের ফলে দেশজুড়ে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ৪জি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৫জি প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক অবকাঠামোকে পরিবেশবান্ধব করতে ‘গিগা গ্রিন’ প্রযুক্তির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মোহনা হলে আয়োজিত ‘চট্টগ্রামে রবির ৪জি নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন উদযাপন’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
১৮০ দিনে আধুনিকায়ন ৩৫০০ সাইট
রবির নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো কাজ চলাকালে গ্রাহকদের নিয়মিত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। আধুনিকায়নের পর এসব অঞ্চলে গ্রাহকদের সামগ্রিক ৪জি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে।
এ ছাড়া আরও ১০ শতাংশ মানুষ উন্নত ইনডোর ৪জি কাভারেজের আওতায় এসেছে। নেটওয়ার্কে আধুনিক এমআইএমও বা মাল্টিপল ইনপুট মাল্টিপল আউটপুট প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় সিগন্যালের শক্তি ও কাভারেজ বাড়ানোর পাশাপাশি সংযোগের মানও উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছে রবি।
কমেছে বিদ্যুৎ ব্যবহার
নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক অবকাঠামোর কারণে নেটওয়ার্ক পরিচালনায় বিদ্যুতের ব্যবহারও কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
রবির মতে, এর ফলে একদিকে পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যও আরও জোরদার হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে রবির একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। কারণ, এই অঞ্চলের সঙ্গেই প্রতিষ্ঠানটির যাত্রার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রতিযোগিতামূলক টেলিযোগাযোগ বাজারে রবি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বড় প্রকৌশলগত অর্জন
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় পরিসরের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশলগত সাফল্য।
তিনি বলেন, সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রবির বিনিয়োগ দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
টেলিযোগাযোগ খাতের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের মোবাইল যোগাযোগের শুরু হয়েছিল ২জি প্রযুক্তির মাধ্যমে। তখন তুলনামূলক দূরত্ব বজায় রেখে টাওয়ার স্থাপন করা হতো। পরবর্তীতে ৪জি প্রযুক্তির বিস্তার এবং গ্রাহকদের ইন্টারনেট ও ভিডিও ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ায় নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
তার মতে, একটি কার্যকর ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন ও শক্তিশালী কানেক্টিভিটি অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে রবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, রবির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। নেটওয়ার্ক ও সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে রবি আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে সারাদেশের নেটওয়ার্ক রূপান্তর কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হয়েছে।
তার মতে, এটি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়; দেশের গ্রাহকদের আরও উন্নত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
জিয়াদ সাতারা বলেন, বৃহত্তর ঢাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়নের পর চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ায় রবির নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অতিথিদের সঙ্গে কেক কাটায় অংশ নেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা আদিল হোসেন নোবেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, ব্যবসায়ী নেতা এসএম আবু তৈয়বসহ অন্য অতিথিরা।
ঢাকায় বড় পরিসরের নেটওয়ার্ক রূপান্তর
এর আগে বৃহত্তর ঢাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও দ্রুততম নেটওয়ার্ক রূপান্তর প্রকল্প বাস্তবায়ন করে রবি।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রকল্পের পর বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে কল ড্রপের হার কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। প্রায় অর্ধেক গ্রাহকের ইনডোর নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও সর্বোচ্চ তিন গুণ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে।
রবির ভাষ্য, সারাদেশে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন শেষ হওয়ার ফলে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল সেবার জন্য আরও শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হলো।
রবির মালিকানা কাঠামো
রবি আজিয়াটা পিএলসি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শেয়ারহোল্ডার মালয়েশিয়াভিত্তিক আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ, যার মালিকানা ৬১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এছাড়া ভারতের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ভারতী এয়ারটেলের হাতে রয়েছে ২৮ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার। বাকি ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ পাবলিক শেয়ারহোল্ডারদের কাছে।
রবি বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালী করতে তারা ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে।
শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত উন্নত সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল পণ্য ও সেবার বিস্তারে এই অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভোরের আকাশ/ইউএম