শ্রীপুরে স্কুলের মাঠ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

গাজীপুরের শ্রীপুরে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
কারখানার নির্মান সামগ্রী রেখে নষ্ট করেছে খেলাধুলার পরিবেশ।ড্রাম ট্রাকের চাকার ঘর্ষণ আর বৃষ্টি পানিতে মাঠ পরিনত হয়েছে কৃষি জমিতে।ছাত্র ছাত্রীরা খেলাধুলা করতে না পারায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। কারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছে প্রধান শিক্ষকের ছেলে রাতুল। মাঠ ভাড়া নিয়ে করছেন সেই কাজ।
এতে করে প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেছে শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার ।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরোমাঠেই রাখা হয়েছে ইটবালি রড সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী। পাশের চলছে শিল্প কারখানার সীমনা প্রাচীর নির্মানের কর্মযজ্ঞ। মাঠ দিয়ে ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে ইতিমধ্যে মাঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো মাঠে কাঁদা মাটিতে ভরে গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে স্তুপ করে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। বর্তমানে স্কুলের মাঠ পুরোপুরি খেলাধুলা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মরিয়ম বলেন, কয়েকদিন যাবৎ আমাদের মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। পুরো মাঠ কাঁদা হয়ে গেছে। নির্মাণ সামগ্রী রেখে আমাদের মাঠ নষ্ট করছে। ইটের সুরকি পায়ের নিচে লেগে আহত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।
স্কুলের শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, প্রায় প্রতিদিন আমরা মাঠে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু কয়েকদিন যাবৎ সব খেলাধুলা বন্ধ আমাদের খেলার মাঠটি একেবারে নষ্ট করে ফেলেছে। আমরা তাদের বিচার চাই। আমাদের স্কুলমাঠ আগের অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।
নির্মাণ সামগ্রী ভাঙার কাজ করেন মো. সাগর হোসেন তিনি বলেন, নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের ছেলে রাতুল এই কাজের জন্য আমার সঙ্গে কন্টাক্ট করেছেন। মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কারখানা কতৃপক্ষ ভাড়া নিয়েছে। আমাদেরকে কাজ করার জন্য এনেছে আমরা কাজ করছি।
নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসাইন বলেন, হঠাৎ করে রবিবার স্কুলে এসে দেখি পুরো মাঠে ইটা বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা। জানতে চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান প্রধান শিক্ষক আর তার ছেলে অনুমতি দিয়েছে। এরপর আর আমরা কোথায় প্রতিবাদ করবো। শিক্ষার্থীদের সবধরনের খেলাধুলা বন্ধ।
আলমা ফিট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এর জেনারেল ম্যানেজার শাহেদ হাসান মোরসালিন বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে মাঠ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মনির হোসেন নামে দুজনকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। তারা কিভাবে মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখছে এটা বলতে পারবো না। আমি কাউকে অনুমতি দেইনি।
শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, এবিষয়ে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কাউকে অনুমতি দিতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেঃ নাহিদ ভূঁঞা বলেন, মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে অবগত হয়েছি। স্কুলমাঠ নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ভোরের আকাশ/এনউব