আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ নিহত ৮

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামগড়া এলাকার প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ নিহত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৩০)। তিনি ওই কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
নজরুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে তারা আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় বসবাস করেন। তার বাবা প্রীতি গ্রুপের কারখানার সামনে পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখতে পান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মোখলেস মিয়া (৪৫) ও গাড়িচালক নুর ইসলাম (৩০)।
আহত মোখলেস মিয়া জানান, তিনি ও তার ছেলে সুজন জামগড়ার প্রীতি গ্রুপের কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করেন। রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন লোহার সামগ্রী, ইটপাটকেল ও কাচ ছিটকে এসে সুজনের মাথায় আঘাত করে। এতে সুজন আহত হন এবং মোখলেস মিয়ার হাতেও আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
অন্যদিকে আহত নুর ইসলাম গ্যাস পরিবহনকারী গাড়িটির চালক। তার ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাটে হলেও তিনি ভোলায় থাকতেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় মোট চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন ক্যাজুয়ালটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অপর নিহতদের মধ্যে সালমা নামে এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এছাড়া বুলবুল নামে আরও একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ এবং নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
ভোরের আকাশ/জেআ