মালয়েশিয়ায় রোবোটিকস প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয় করল চাঁদপুরের দুই শিক্ষার্থী

মালয়েশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক রোবোটিকস প্রতিযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও রোবোটিকস ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক জয় করেছে বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিভিত্তিক ‘WALL-E’ প্রজেক্ট প্রদর্শন করে তারা এই গৌরব অর্জন করে।
বিজয়ী দুই মেধাবী উদ্ভাবক হলো চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সামিউ ইমাম স্পর্শ ও সানিয়া সাঈদ।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মালয়েশিয়ার পেটালিং জায়ায় অবস্থিত সেগি ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কুমার চক্রবর্তী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে এই সম্মাননা ও স্বর্ণপদক তুলে দেন।
চলতি মাসের ১০ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের তিনটি দল স্বর্ণপদক অর্জন করে। তবে ‘আইটি অ্যান্ড রোবোটিকস’ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্পর্শ ও সানিয়ার ‘WALL-E’ প্রজেক্টটি।
শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সামিউ ইমাম স্পর্শের মা ও ওই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক বদরুন নাহার লরিন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ সাফল্যে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ অর্জন শুধু আমাদের স্কুল বা চাঁদপুরের নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের জন্যই এক বিরাট গৌরবের।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন কামাল বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা উজ্জ্বল করা দুই শিক্ষার্থীর এ সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সম্ভাবনাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও তাদের যেকোনো উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আমাদের প্রতিষ্ঠান পাশে থাকবে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে স্পর্শ ও সানিয়া জানায়, তাদের এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা, উৎসাহ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা ভবিষ্যতে দেশের জন্য প্রযুক্তি খাতে আরও বড় অবদান রাখতে চায়।
ভোরের আকাশ/ ইউএম