সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে উল্টোপথে বাস চলাচল, ঝুঁকিতে ১৪০০ শিক্ষার্থী

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে প্রতিদিন চলাচল করে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার যানবাহন। ব্যস্ত এই মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশের দুই প্রান্তে গড়ে উঠেছে একাধিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট।
এসব হোটেলে যাত্রাবিরতির জন্য বিভিন্ন পরিবহনের শতাধিক যানবাহন মহাসড়কের নির্ধারিত লেন অতিক্রম করে উল্টো পথে চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এই মহাসড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে।
সরেজমিনে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের পাঁচলিয়া এলাকায় দেখা যায়, ঢাকামুখী একাধিক কোম্পানির বাস ঢাকামুখী লেনে না গিয়ে বাঁক নিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী লেনে প্রবেশ করছে। পরে সেখান থেকে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে গিয়ে যাত্রাবিরতি শেষে আবার উল্টো পথে পাঁচলিয়া এলাকা থেকে বাঁক নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে।
এদিকে পাঁচলিয়া এলাকায় রয়েছে পাঁচলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঁচলিয়া বদরল আলম উচ্চ বিদ্যালয়। দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গমুখী লেন দিয়ে ঢাকামুখী লেনের যানবাহন চলাচল করায় শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের মহাসড়ক পারাপারে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বাম বা ডান দিক থেকে কোনো যানবাহন আসছে কি না, সেটিও অনেক সময় বুঝতে পারছে না পথচারীরা।
পাঁচলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ভোরের আকাশকে বলেন, আমার বিদ্যালয়ে আসতো চারপাশ থেকে গাড়ি আসে। এখানে অনেক মানুষ মারা গেছে। রাস্তা পার হতে ভয় হয়, দুই পাশ থেকেই গাড়ি আসে। এসব বন্ধ হলে ভালো হয়, আমাদের স্কুলে আসতে ভয় হয়।
আরেক শিক্ষার্থী মো. আরমান বলেন, ভোরের আকাশকে আমরা তো স্যারদের ছাড়া রাস্তা পার হতেই পারিনা। উল্টো দিক দিয়ে গাড়ি আসে। যদি নিয়ম মেনে গাড়ি চলে আর পুলিশ থাকে, তবে আমাদের সুবিধা হতো।
রিকশাচালক রফিক খান ভোরের আকাশকে বলেন, হাটিকুমরুল হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জ হওয়ার পর থেকেই বাসগুলো উল্টোপথে হোটেলে যাচ্ছে। যার কারণে পাঁচলিয়া আন্ডারপাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিপরীত দিকে রেস্টুরেন্ট হওয়ায়, বাসগুলো এভাবে রং লাইনে যাচ্ছে। এটি থামানোর কেউ নেই।
পাঁচলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভোরের আকাশকে বলেন, আমাদের এখানে দুটি স্কুল। প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থী মহাসড়ক পার হয়। যদিও আমরা পার করে দেয়, তবে আসার সময় তো ওরা আলাদা আলাদা আসে। পাশো হোটেল আছে, সেসব হোটেলে অনেক গাড়ি উল্টোদিকে আসে। আমরা বিভিন্ন মানুষকে জানিয়েছে। তবুও ফলপ্রসূ হয়নি।’
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, দেশ, ন্যাশনাল, হানিফ, শ্যামলি, আসাদ, সি লাইন ও সরকার ট্রাভেলস কোম্পানির বাস এসব হোটেল ও রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতি করে। তবে উল্টো পথে আসার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বাসচালকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসচালক বলেন, আমরা তো আর মালিক নয়, মালিকপক্ষ আমাদের এই রেস্টুরেন্টে দাঁড়াতে বলেছে, আমরা তাই দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে হাটিকুমরল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান ভোরের আকাশকে বলেন, এই হোটেল গুলোতে কিছু গাড়ি দাড়াচ্ছে। আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো অভিযোগ করেনি। মূল লেন ক্লিয়ার থাকে, সার্ভিস লেনে কিছু গাড়ি আসে। সামান্য একটু রং লাইন ব্যবহার করে। আমরা মালিকদের সাথে কথা বলেছি, সংখ্যা কমে আসছে। এটি সমাধান হয়ে যাবে। আমাদের ফোর্স স্বল্পতা ও বিভিন্ন দিক চিন্তা করে আমাদের কাজ করতে হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র