টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করছেন সিটি প্রসাশক

টানা আট ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সকাল ৯টার পর আর ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় প্রধান প্রধান সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে।
তবে নীচু এলাকার রাস্তাঘাট এখনও পানির নীচে। অনেক বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা। ভোর রাত থেকে বৃষ্টির পানিতে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও আবাসিক এলাকার অলিগলিতে পানি জমে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অনেকের বসত ঘরে পানি উঠায় বেড়েছে ভোগান্তি।
এদিকে ভোর থেকেই নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের জন্য বিভিন্ন অলিগলিতে নিজ হাতে কাজ করছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
ময়মনসিংহ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, রাত ১টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আট ঘন্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এ বছরের ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত । বৃষ্টির পানির কারনে সৃষ্ট জলবদ্ধতার কারণে নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
নগরীর চরপাড়া কপিক্ষেত এলাকার বাসিন্ধা সৌরভ জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, যা প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্ধা শওকত হোসেন জানান, পানি চলাচলের ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় বাসাতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ভিজে গেছে। আমরা প্রতি বছর এই সময়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে থাকি।
চরপাড়া মোড় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়েন জামালপুরের আবুল বাশার।
তিনি বলেন, রাস্তায় হাঁটুপানির কারণে কয়েকশ মিটার রাস্তা অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে যেতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতালেও পানি উঠায় আমার মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, ভারি বৃষ্টির কারণে নগরীতে কিছু সময়ের জন্য জলজটের সৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নামছে। প্রধান প্রধান সড়ক থেকে পানি ইতোমধ্যে নেমে গেছে। তবে নীচু এলাকার রাস্তাঘাটে এখনও পানি রয়ে গেছে।
সেই পানিও দুইতিন ঘন্টার মধ্যে নেমে যাবে। সকাল থেকে আমি বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছি। মূলত অলিগলিতে পানি জমে আছে। এর কারণ হচ্ছে বহুতল ভবনের মালিকগণ অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই