স্বাস্থ্য প্রশাসন

বৈধ অগ্নি নিরাপত্তা লাইসেন্স নেই আদ-দ্বীন হাসপাতালের : ফায়ার সার্ভিস

ছবি: সংগৃহীত

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের মুখে থাকা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০২৩ সাল থেকে অগ্নি নিরাপত্তা লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি এবং তাদের কোনো অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ৭০০ শয্যার এই বেসরকারি হাসপাতালকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা জমা দিতে এবং তিন মাসের মধ্যে নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছিল।  ২৭ মে (বুধবার) কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটি একাধিক তদন্তের মুখে থাকা অবস্থায় এই তথ্য সমানে এসেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, ডেলিভারি-পরবর্তী অপারেশন রুমে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি এর জন্য দায়ী হতে পারে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের সব হালনাগাদ নিয়ন্ত্রক নথি রয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তারা সেগুলো গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৬ নবজাতকের মধ্যে দুইজনকে ডেলিভারি পরবর্তী অপারেশন রুম থেকে মৃত অবস্থায় নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) আনা হয়, আর বাকি চারজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় এনআইসিইউ-তেই মারা যায়।

মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, অপারেশন-পরবর্তী কক্ষের ব্যবস্থাপনা ও ভেন্টিলেশন ঘাটতি এই মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে রমনা পুলিশও একটি পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে, যা শুরু হয়েছে এক নবজাতকের বাবার দায়ের করা মামলার পর।

এছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সিনিয়র স্টাফ অফিসার শাহজাহান সিকদার সোমবার গণমাধম্যকে বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতাল ২০২৩ সাল থেকে তাদের ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করেনি। আমরা তাদের একাধিক সতর্কবার্তা পাঠিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিঠি পেয়েছে, তবে কোনো জবাব দেয়নি। ৭০০ শয্যার এই হাসপাতালকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিন মাসের মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা জমা দিতে এবং নিয়ম মানতে বলা হয়েছিল।

১২ জানুয়ারি জারি করা নোটিশে ফায়ার সার্ভিস জানায়, ফায়ার প্রিভেনশন অ্যান্ড এক্সটিংগুইশিং অ্যাক্ট ২০০৩ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী, ভবনটি ব্যবহার ও পরিচালনার আগে অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অনুমোদন ও তা বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। নোটিশে আরো বলা হয়, হাসপাতালটি চালু থাকলেও তারা এখনো অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অনুমোদন নেয়নি বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেনি, যা আগুন লাগার ঝুঁকি এবং প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফায়ার সার্ভিস তিন মাসের মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করে অনুমোদন নেওয়া এবং সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। এছাড়াও সতর্ক করা হয়, নির্দেশনা না মানলে ভবনটি অপ্রতুল অগ্নি নিরাপত্তার কারণে ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে এবং ফায়ার প্রিভেনশন অ্যান্ড এক্সটিংগুইশিং অ্যাক্ট ২০০৩ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মানবসম্পদ ও কোম্পানি বিষয়ক পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, “আমার জানা মতে, আমাদের সব কাগজপত্র হালনাগাদ আছে।”

ভোরের আকাশ/সু.পা

বৈধ অগ্নি নিরাপত্তা লাইসেন্স নেই আদ-দ্বীন হাসপাতালের : ফায়ার সার্ভিস | স্বাস্থ্য কথা