দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে গাজরের ভূমিকা কতটুকু?

ছবি: সংগৃহীত
ছোটবেলা থেকেই আমরা একটি কথা শুনে আসছি—গাজর খেলে চোখের দৃষ্টি ভালো হয়, এমনকি চশমারও প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু বহুল প্রচলিত এই ধারণার কতটা সত্য? বিজ্ঞান বলছে, গাজর চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও এটি অলৌকিকভাবে দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয় না কিংবা চশমার বিকল্পও নয়।
গাজরে রয়েছে প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন, যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন এ চোখের কর্নিয়া সুস্থ রাখতে, চোখ আর্দ্র রাখতে এবং বিশেষ করে কম আলোতে দেখার ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে রাতকানাসহ বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত গাজর খেলে ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত চোখের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে যাদের শরীরে আগে থেকেই ভিটামিন এ-এর ঘাটতি নেই, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি আরও তীক্ষ্ণ হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
এছাড়া গাজর ক্ষীণদৃষ্টি (মায়োপিয়া), দূরদৃষ্টি (হাইপারোপিয়া) বা অ্যাস্টিগম্যাটিজমের মতো প্রতিসরণজনিত সমস্যা সারাতে পারে না। চোখের গঠনের কারণে এসব সমস্যা হলে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্সের বিকল্প হিসেবে গাজর কাজ করবে না।
তবে গাজর একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। এতে থাকা ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, ত্বক ভালো রাখতে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পরিমাণে গাজর খেলে শরীরে বিটা-ক্যারোটিন জমে ত্বক সাময়িকভাবে হলুদ বা কমলা বর্ণ ধারণ করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ক্যারোটেনেমিয়া বলা হয়। যদিও এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং গাজরের পরিমাণ কমিয়ে দিলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
চোখের সুস্থতার জন্য শুধু গাজরের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন (সবুজ শাকসবজিতে), ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (তৈলাক্ত মাছ ও আখরোটে), ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং জিঙ্ক-সমৃদ্ধ খাবারও চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অর্থাৎ, গাজর চোখের জন্য উপকারী—এটি সত্য। তবে এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয় বা চশমার প্রয়োজনীয়তা দূর করে—এমন ধারণার পক্ষে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ভোরের আকাশ/সু.পা



