স্বাস্থ্য শিক্ষা

পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাদ্যের গুরুত্ব

ছবি: সংগৃহীত

অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে অনেক পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুডের এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ কানুপ্রিত অরোরা নারাং জানিয়েছেন, সঠিক ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস শুক্রাণুর গুণমান এবং প্রজননস্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, জিনগত কারণ ও জীবনযাপনের অন্যান্য বিষয় প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেললেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খাবার শুক্রাণুর স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জিংক, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও পর্যাপ্ত প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় নিচের চার ধরনের খাবার রাখা যেতে পারে—

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: শরীরের কোষ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। প্রজনন কোষের বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল ও অন্যান্য লেবুজাতীয় খাবার, মাছ এবং মুরগির মাংস রাখা যেতে পারে। নিরামিষভোজীদের জন্যও ডাল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজসহ প্রোটিনের নানা উৎস রয়েছে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: শরীরে প্রদাহ কমাতে ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ। কিছু গবেষণায় এটি শুক্রাণুর গুণমানের সঙ্গেও ইতিবাচকভাবে সম্পর্কিত বলে দেখা গেছে। আখরোট, সামুদ্রিক মাছ, চিয়া সিড ও হেম্প সিড ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস।

জিংকসমৃদ্ধ খাবার: জিংক প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। এটি স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদন ও হরমোনের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। মাছ, কাজুবাদাম ও কুমড়ার বীজসহ বিভিন্ন খাবারে জিংক পাওয়া যায়।

রঙিন ফল ও সবজি: বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজিতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। সুষম খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল ও সবজি রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

জীবনযাপনে সতর্কতা
শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদক গ্রহণ এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও হরমোনের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করা জরুরি। তবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন একাই সব ধরনের বন্ধ্যাত্ব বা প্রজনন সমস্যার সমাধান করে না। দীর্ঘদিন ধরে সন্তান ধারণে সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

ভোরের আকাশ/সু.পা

পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাদ্যের গুরুত্ব | স্বাস্থ্য কথা