স্বাস্থ্য প্রশাসন

অধিকাংশরা সময়মতো পায়নি নিউমোনিয়ার টিকা

ময়মনসিংহে হামে ১৬ দিনে ১৩ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে হামে আক্রান্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মে মাসের প্রথম ১৬ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, সব শিশুরই হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ছিল এবং অনেকের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র অকার্যকর হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি সাত মাস বয়সী শিশু সুমাইয়ার মৃত্যুর বিষয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ মে সুমাইয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, আর তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু সুমাইয়া মারা যায়। পরিবারটি জানায়, নির্ধারিত সময়ে নিউমোনিয়া প্রতিরোধক পিসিভি টিকা না পাওয়ায় শিশুটির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, টিকা সরবরাহ সংকটের কারণে জেলার বহু শিশু সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া প্রতিরোধক পিসিভি টিকার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে জেলাগুলোতে এই টিকার মজুত প্রায় শূন্য। যার ফলে অনেক পরিবার নির্ধারিত সময়ে টিকাকেন্দ্রে গিয়েও টিকা না পেয়ে ফিরে আসছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় ফলে নিউমোনিয়া দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। চলতি মাসে মারা যাওয়া ১৩ শিশুর সবার ক্ষেত্রেই নিউমোনিয়ার জটিলতা বিদ্যমাণ ছিল। বেশির ভাগ শিশুই হাসপাতালে ভর্তির এক-দুই দিনের মধ্যেই মারা গেছে।

১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৭২ জন শিশু। এর মধ্যে অধিকাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে ১২২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে টিকা সরবরাহে অনিয়ম শুরু হয় এবং ২০২৫ সালে তা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। চাহিদার তুলনায় অনেক কম টিকা সরবরাহ হওয়ায় শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকাদান ব্যাহত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সময়মতো হাম ও নিউমোনিয়ার টিকা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মৃত্যু অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

ময়মনসিংহে হামে ১৬ দিনে ১৩ শিশুর মৃত্যু | স্বাস্থ্য কথা