চিকিৎসক

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে বাড়ছে জটিল ও অসংক্রামক রোগ : ড. মজিবুল হক

ছবি: সংগৃহীত

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত জীবনযাপন ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে দেশে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডব্লিউইউএসটি)-এর ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মজিবুল হক।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টায় রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রফেসর ড. মজিবুল হক বলেন, বিশ্বজুড়েই হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এসব রোগের পেছনে জিনগত কারণ থাকলেও অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য দিনের শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা বা কফি পান না করে পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর নাশতা গ্রহণ এবং শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ট্রান্সফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে মৌসুমি ফল, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি, মানসম্মত প্রোটিন এবং পরিমিত স্বাস্থ্যকর শর্করা সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ডায়াবেটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থার জটিল পরিবর্তনের ফল। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপন চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপন শরীরে প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) তৈরি করে, যা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তি এবং সুষম জীবনধারার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তব্যের শেষে প্রফেসর ড. মজিবুল হক বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—সুষম খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা, শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তা (পশ্চিম) গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেবনাথ। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান। সেমিনারের উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাটি লিভারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্ন করেন।

প্রফেসর ড. মজিবুল হক বৈজ্ঞানিক তথ্যের আলোকে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে আগাম সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে বাড়ছে জটিল ও অসংক্রামক রোগ : ড. মজিবুল হক | স্বাস্থ্য কথা