অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রনে ৩৫ মন্ত্রণালয়ের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় কমিটি’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের সভা সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের বেশি অসংক্রামক রোগজনিত কারণে ঘটছে। এর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশই অকালমৃত্যু। ফলে জাতীয় উৎপাদনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত হাঁটাচলা, কায়িক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা গেলে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি নতুন ও উদ্ভাবনী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি সময়াবদ্ধ বাস্তবায়ন কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় ‘হেলথ ইন অল পলিসিজ’ বা ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রস্তুত রয়েছে।
সভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ একজন করে ফোকাল পয়েন্ট মনোনয়ন দেবে। পাশাপাশি আগামী ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে নিজ নিজ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। এসব পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সূচক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ বা সমন্বিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



