রাতে দুধ পান করার অভ্যাস কতটা স্বাস্থ্যকর?

ছবি: সংগৃহীত
ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করার অভ্যাস বহু পরিবারে দীর্ঘদিনের। অনেকের বিশ্বাস, এটি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তবে এই ধারণার পেছনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো ভিত্তি আছে কি? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলেও বিষয়টি পুরোপুরি দুধের ওপর নির্ভর করে না।
দুধে ট্রিপটোফ্যান নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। শরীর এই উপাদান ব্যবহার করে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরি করে, যা ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও এক গ্লাস দুধকে শক্তিশালী ঘুমের ওষুধ বলা যাবে না, তবে এটি ঘুমে সহায়ক হিসেবে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধু দুধের উপাদানই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর আগে গরম দুধ পান করলে শরীর একটি নির্দিষ্ট সংকেত পায় যে বিশ্রামের সময় এসেছে। এই নিয়মিত রুটিন শরীরের জৈবিক ঘড়িকে (বডি ক্লক) সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে এবং ভালো ঘুমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কাদের রাতে দুধ পান এড়িয়ে চলা উচিত?
রাতে দুধ পান সবার জন্য সমান উপকারী নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দুধ পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হজমের অস্বস্তির কারণ হতে পারে, যা উল্টো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। আর যাদের দুধে অ্যালার্জি আছে, তাদের অবশ্যই দুধ এড়িয়ে চলা উচিত।
এ ছাড়া যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তারা ঘুমানোর ঠিক আগে বেশি পরিমাণে দুধ পান করলে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত দুধ পান করলে রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হতে পারে, যা ঘুমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
কখন এবং কীভাবে দুধ পান করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমানোর ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে পরিমিত পরিমাণে গরম বা কুসুম গরম, চিনি ছাড়া সাধারণ দুধ পান করা ভালো। অতিরিক্ত চিনি বা ফ্লেভারযুক্ত দুধ এড়িয়ে চলাই উত্তম, কারণ এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি যোগ হয়।
সব মিলিয়ে, রাতে গরম দুধ পান ভালো ঘুমে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা মূলত দুধের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপরও নির্ভর করে। ভালো ঘুমের জন্য নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখা, ক্যাফেইন কম গ্রহণ করা এবং ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভোরের আকাশ/সু.পা



