সরকারকে ৩ লাখ ডোজ টিকা অনুদান দিল সিনোভ্যাক

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) চলমান কার্যক্রমকে আরও বেগবান, গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেছে। এ উপলক্ষে আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপেং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডিরেক্টর লী নিং।
উল্লেখ্য, সিনোভ্যাকের অনুদানকৃত মোট ৭৬,৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও টিকার চালান ইতোমধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রদান করা হবে।
সিনোভ্যাকের তৈরি এই পোলিও (পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন, ভেরো সেল, ইনঅ্যাক্টিভেটেড সাবিন স্ট্রেইন—sIPV) টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করে আসছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, টিকা অনুদানের মাধ্যমে চীন আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামের টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও সামনে ডেঙ্গু, পোলিও ও হান্টা ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে পোলিও ও যক্ষাসহ যেসব রোগের টিকা প্রয়োজন, সেখানে কোনো ঘাটতি নেই এবং নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি, তাদের শিগগিরই দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, শিগগিরই “ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন” শুরু হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু মোকাবিলায় বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে এর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপেং বক্তব্য রাখেন।
সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডিরেক্টর লী নিং বলেন, “বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে সিনোভ্যাক অত্যন্ত গর্বিত। আজ আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে WHO প্রি-কোয়ালিফিকেশনপ্রাপ্ত ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও (sIPV) ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে প্রদান করতে পেরে আনন্দিত।”
তিনি আরও বলেন, পোলিও একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ, এবং টিকাদানই এর প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই অনুদান বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চীনা দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হোআং মৌচং, সিনোভ্যাক বায়োটেকের আন্তর্জাতিক রেগুলেটরি বিভাগের প্রধান ওয়াং পোং, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



