স্বাস্থ্য প্রশাসন

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে আজ রোববার (২৮ জুন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে ভিটামিন ‘এ’ অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান।

কেন প্রয়োজন ভিটামিন ‘এ’?

অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ: ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত কারণে শিশুদের রাতকানা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি থাকে। এই ক্যাপসুল চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে সাধারণ সংক্রমণ ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমে যায়।

হাম, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার জটিলতা হ্রাস: ভিটামিন ‘এ’ হাম, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো সংক্রামক রোগের তীব্রতা ও জটিলতা কমাতে সহায়ক এবং মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস করে।

স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ: শিশুর হাড়ের গঠন, কোষের বৃদ্ধি এবং শারীরিক-মানসিক বিকাশে এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতি হলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

বয়স অনুযায়ী ডোজ

ক্যাম্পেইনে শিশুদের বয়সভেদে দুই ধরনের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে—

৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: ১টি নীল রঙের ক্যাপসুল (১,০০,০০০ আইইউ ভিটামিন ‘এ’)

১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: ১টি লাল রঙের ক্যাপসুল (২,০০,০০০ আইইউ ভিটামিন ‘এ’)

অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

খালি পেটে খাওয়ানো যাবে না: শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আগে অবশ্যই কিছু খাবার খাওয়াতে হবে।

অসুস্থ শিশুর ক্ষেত্রে সতর্কতা: গুরুতর অসুস্থ বা চিকিৎসাধীন শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।

টিকার বিকল্প নয়: ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কোনো টিকা বা সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়; এটি একটি সম্পূরক মাত্র।

ক্যাম্পেইনের দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল খেতে না পারলে পরদিন (২৯ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করতে পারবে। দুর্গম এলাকায় এ কার্যক্রম আরও কয়েকদিন চলবে।

বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষামূলক ক্যাপসুল খাওয়াতে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা | স্বাস্থ্য কথা