বাজেটের প্রভাব নেই নিত্যপণ্যের বাজারে, সয়াবিনে ৫ টাকা বেড়েছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুনসহ অধিকাংশ পণ্যই আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধি বাজেট ঘোষণার আগেই হয়েছে এবং এর সঙ্গে বাজেটের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর মধ্য বাড্ডা কাঁচাবাজার ও মেরুল বাড্ডা পাঁচতলা বাজার ঘুরে দেখা যায়, মসুর ডাল প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং রসুন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ২০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ৫ টাকা বেশি।
মধ্য বাড্ডা কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. আব্দুল কাদের বলেন, বাজেট ঘোষণার পর বাজারে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি। অধিকাংশ পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কোম্পানি পর্যায়ে দাম বাড়ানোয় সয়াবিন তেল বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই বাজারের বিক্রেতা মো. শাহীন মিয়া বলেন, নতুন চালানে তেল বেশি দামে এসেছে। দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা অবগত নন। কোম্পানি যে দামে সরবরাহ করছে, সেই অনুযায়ী বিক্রি করা হচ্ছে। তার মতে, এ মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বাজেটের কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। মেরুল বাড্ডার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তেল এমন একটি পণ্য যা প্রতিদিনের রান্নায় অপরিহার্য। কয়েক টাকা দাম বাড়লেও মাস শেষে সংসারের খরচে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।
একই বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও তেলের দাম বারবার বাড়ছে। এতে পারিবারিক ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনগুলোতে বাজেটের প্রভাব বাজারে কতটা পড়ে, সেদিকে নজর রাখছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা এবং ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও আগের দামের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, প্রস্তাবিত বাজেট এসব পণ্যের বাজারে এখনো তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব ফেলেনি।
ভোরের আকাশ/সু.পা