সৌদির সংকটে পাশে নেই কেউ, মক্কা চুক্তি কোথায়?

ইয়েমেনের হুথিদের একের পর এক হামলায় ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে সৌদি আরব। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এখন শুধু সীমান্তবর্তী এলাকা বা সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরসংলগ্ন বাণিজ্যপথও হুমকির মুখে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পবিত্র নগরী মক্কাকে ঘিরে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—সৌদি আরবের পাশে এখন কে? আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল, তার বাস্তব প্রয়োগ কোথায়?
হুথিরা কেন আরও শক্তিশালী?
২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা করা এবং হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো।
কিন্তু এক দশকের বেশি সময় পর দেখা যাচ্ছে, হুথিদের সামরিক সক্ষমতা কমেনি; বরং তারা ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আরও সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুথিদের টিকে থাকার পেছনে ইয়েমেনের দুর্গম ভূগোল, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী আদর্শিক কাঠামো এবং ইরানের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০১৫ সালে তাদের যোদ্ধার সংখ্যা আনুমানিক ৩০ হাজারের কাছাকাছি থাকলেও ২০২৪ সালে তা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছিল বলে মার্কিন সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তাদের হাতে বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর আরও বেশি কৌশলগত প্রভাব তৈরি করেছে। এর ফলে শুধু সৌদি নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যও ঝুঁকিতে পড়েছে।
মক্কা চুক্তির কী হলো?
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা’ চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল ধারণা—এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু চুক্তির ভাষা যতটা শক্তিশালী, বাস্তব প্রয়োগের কাঠামো ততটা স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তখন বলেছিলেন, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।
আলজাজিরায় বিশ্লেষক রিয়াজ খোখার বলেন, চুক্তিতে কোন পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ হবে, কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং কোন দেশ কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে—এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত বা প্রকাশ্য নয়।
তার মতে, সৌদি আরবকে প্রথমে নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। এ কারণেই হুথি হামলা শুরু হওয়ার পরও পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনাবাহিনী ইয়েমেনে প্রবেশ করেনি।
রিয়াজ খোখার আরও উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বদলে বিমান প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহায়তা বা অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার দিকে যেতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি বিশ্লেষক ও লেখক খালেদ এম. বাতারফি আলজাজিরাকে বলেন, হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সরাসরি পরীক্ষা।
তার মতে, রিয়াদের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে সৌদির ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ হয়, কিন্তু দেশটি আবার দীর্ঘস্থায়ী ইয়েমেন যুদ্ধে আটকে না পড়ে।
সৌদির মিত্ররা কি যুদ্ধ এড়াতে চাইছে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, তুরস্ক, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং পশ্চিমা শক্তিগুলো সৌদি আরবকে বিভিন্ন মাত্রায় রাজনৈতিক সমর্থন ও কূটনৈতিক সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে নামার প্রশ্নে সবাই অত্যন্ত সতর্ক।
এর অন্যতম কারণ ইয়েমেন যুদ্ধের অতীত অভিজ্ঞতা। সৌদি আরব বহু বছর ধরে ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল পায়নি। ফলে এখন রিয়াদের জন্য আবার দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া বড় ঝুঁকি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান একদিকে সৌদির প্রতিরক্ষা অংশীদার, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার ভূমিকাতেও রয়েছে। ফলে ইসলামাবাদকে একই সঙ্গে সৌদি নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হচ্ছে।
এখানেই মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় বাস্তব পরীক্ষা। কাগজে যৌথ প্রতিরক্ষা থাকলেও কোনো সদস্য রাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে প্রবেশ করবে কি না, তা নির্ভর করছে হামলার মাত্রা, সৌদির আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এবং তিন দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
পাকিস্তানের সামনে পুরোনো সেই দ্বিধা
২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের সময় সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছে সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান সহায়তা চেয়েছিল। তবে পাকিস্তানের সংসদ সর্বসম্মতভাবে ইয়েমেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নেয় এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য কূটনৈতিক ভূমিকার কথা বলে।
আলজাজিরার বিশ্লেষক জাভাদ হেইরান-নিয়া বলেছেন, মক্কা চুক্তির অর্থ এমন নয় যে কোনো সদস্য আক্রান্ত হলেই অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে প্রবেশ করবে।
অর্থাৎ পাকিস্তান সৌদির সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়, কিন্তু একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গেও তার যোগাযোগ বজায় রাখতে হচ্ছে।
রয়টার্স বলছে, গত এক বছরে ইসলামাবাদ একদিকে রিয়াদের প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও নিয়েছে।
এই দ্বৈত ভূমিকা এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা।
তুরস্ক কি সরাসরি যুদ্ধে যাবে?
মক্কা চুক্তির তৃতীয় সদস্য তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য এবং ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে দেশটির।
কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের বিশ্লেষক উমের করিম বলেছেন, চুক্তিটি তিন দেশের জন্য অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বিকল্প ও সম্পদ তৈরি করে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আঙ্কারা সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে সেনা পাঠাবে।
অর্থাৎ সৌদি আক্রান্ত হলেই তুর্কি সেনা ইয়েমেনে নামবে—এমন ধারণা বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি সরল।
যুক্তরাষ্ট্রও কেন সরাসরি যুদ্ধে যাচ্ছে না?
সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি যুবরাজ মোহ্ম্মদ বিন সালমান নিজেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একাধিক বার ফোন করে হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প হুথিদের সঙ্গে সরাসরি বড় আকারের সামরিক সংঘাতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদির সঙ্গে যোগাযোগ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বজায় রাখলেও সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন বড় সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে সতর্ক। একই সময়ে ওয়াশিংটন আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
আলজাজিরার বিশ্লেষক সিনজিয়া বিয়াঙ্কো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া সৌদি আরবের প্রতিরোধ ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়—এমন ধারণা ভুল।
তার মতে, রিয়াদের হাতে নিজস্ব বিমানবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে।
সুযোগ নিতে পারে ইসরায়েল
ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে বাঁচতে এবার দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সৌদি আরব। আর এতে মধ্যস্থতা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউনিট।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অজ্ঞাত কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম।
প্রতিবেদন বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগের লক্ষ্য হলো তাদের কাছ থেকে হুথিদের সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য নেওয়া, যার মাধ্যমে ইরান সমর্থিত এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সৌদিকে রক্ষার পরিকল্পনা সাজানো হবে।
ইতোমধ্যেই ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের সঙ্গে সৌদি আরবসহ সাত আরব দেশের সামরিক প্রধানদের একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে জার্মানির একটি নিরিবিলি স্কি রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আয়োজিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামিরের পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিসরের সামরিক প্রধানরা অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সেন্টকম-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
এক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান এয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে অন্য সামরিক প্রধানদের অবহিত করেন।
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের ওপর তাদের সাম্প্রতিক হামলা।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি আরবকে হুথিদের মোকাবিলায় কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সেন্টকম-এর সহায়তায় আলোচনা চলছে।
এছাড়াও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মতো বিষয়ও আলোচনা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
সৌদির সবচেয়ে বড় ভয় কী?
হুথিদের বর্তমান অভিযান শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক যুদ্ধও। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম, বীমা খরচ ও পরিবহন ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক হামলার মধ্যে সৌদির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ঘিরে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন উপসাগরীয় উপকূল থেকে ইয়ানবু বন্দরের দিকে তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো বাব আল-মান্দাব। লোহিত সাগরের এই সংকীর্ণ জলপথ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। হুথিরা যদি এখানে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে সৌদির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বড় ঝুঁকিতে পড়বে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হুথিদের অগ্রগতি সৌদি তেল রফতানি এবং বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল—দুটোকেই চাপের মধ্যে ফেলছে। একই কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত—তারা কি সামরিক সংঘাতে যাবে, নাকি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ আরও জোরদার করবে।
মক্কার আকাশে ড্রোন, সৌদির ‘রেড লাইন’
রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি মাসের প্রথম দিকে সৌদির নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরেু করে- বিশেষ করে তেল অবকাঠামো ও বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
এর মধ্যেই মক্কার দক্ষিণে হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংসের খবর পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সৌদি জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ‘রেড লাইন’।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কায় সর্বশেষ এমন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছিল ২০১৭ সালে। এবার কয়েক মিনিটের জন্য মক্কা, তায়েফ ও জেদ্দায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে মক্কা লক্ষ্য করে হামলার সৌদি অভিযোগ হুথিরা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বুধবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মক্কায় হামলার দাবি একটি ঘৃণ্য মিথ্যা। যা এরআগেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এখন এমন দাবি আর কাউকে ভুল বোঝায় না। আমাদের অভিযানগুলোর লক্ষ্য তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি।’
সৌদি যেসব পথ খোলা?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সামনে মোটামুটি তিনটি পথ—বড় আকারের সামরিক অভিযান, সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক পাল্টা ব্যবস্থা, অথবা কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা। বাস্তবে রিয়াদ সম্ভবত তিনটির সমন্বয়ই করতে চাইবে।
সৌদির জন্য তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত পথ হলো- হুথিদের হামলা বন্ধে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীকে শক্তিশালী করা, আকাশ প্রতিরক্ষা আরও বাড়ানো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করা। একই সঙ্গে ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া।
রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব এমন প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তুলছে যার লক্ষ্য সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নয়, বরং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।
মক্কার আকাশে ড্রোনের ঘটনা অবশ্য এই হিসাবকে আরও জটিল করে দিয়েছে। পবিত্র শহরের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই ‘রেড লাইন’-এর কথা বলেছে।
সব মিলিয়ে, মক্কা চুক্তি এখনো নিষ্ক্রিয় নয়—বরং সেটি এমন এক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যার জন্য চুক্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ‘একজন আক্রান্ত হলে সবাই যুদ্ধে যাবে’—এই সরল সমীকরণ বাস্তবে কাজ করছে না। কারণ সৌদি আরবকে রক্ষা করা আর ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধ শুরু করা—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
সূত্র: রয়টার্স, এপি, আলজাজিরা