কিউবার আন্তর্জাতিক মেডিকেল মিশনকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা

কিউবার দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক মেডিকেল মিশন কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিউবার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হোসে অ্যাঞ্জেল পোর্তাল মিরান্দাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এই মেডিকেল মিশনের মাধ্যমে কিউবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠায়। কর্মসূচিটি দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এর মাধ্যমে প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করে কিউবা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন কিউবার জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছে, কিউবার বিদেশে চিকিৎসক পাঠানোর কর্মসূচি ‘জোরপূর্বক শ্রম’ এবং ‘মানবপাচারের’ শামিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিউবার কর্তৃপক্ষ কঠোর আইন ও অর্থনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে কাজ করতে বাধ্য করে বা সেখানে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চাপ দেয়। পাশাপাশি, চিকিৎসক গ্রহণকারী দেশগুলো যে অর্থ পরিশোধ করে, তার ৫০ থেকে ৯৫ শতাংশ কিউবা সরকার নিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কিউবার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির প্রায় ২৪ হাজার চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী বিশ্বের ৫৬টি দেশে কর্মরত ছিলেন। তাদের অধিকাংশকে দুর্গম ও অনুন্নত এলাকায় নিয়োজিত করা হয়েছে। কিউবার দাবি, এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে কর্মরত কিউবার চিকিৎসকদের প্রায় অর্ধেকই ভেনেজুয়েলায় দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে ভেনেজুয়েলা কিউবার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। নগদ অর্থের সংকটে থাকা কিউবার জন্য গত বছর এ কর্মসূচি থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়ে একে ‘মানবিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সেবা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, "কিউবার চিকিৎসা সহযোগিতা কর্মসূচির ওপর এই আঘাত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মৌলিক মানবাধিকারের ওপরও আঘাত।"
আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কিউবার সরকারি পরিসংখ্যান জানায়, বিদেশি দেশগুলো কিউবাকে যে অর্থ দেয়, তার মাত্র ২ দশমিক ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পান এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চিকিৎসকেরা।
এর আগেও চলতি বছর ট্রাম্প প্রশাসন এই কর্মসূচির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। সে সময় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশকে চাপ দিয়ে হাভানার সঙ্গে করা চিকিৎসা সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা