যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ সচল রাখতে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান ও কাতার যৌথভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে
বৈঠকে ইরান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর বিষয়েও কথা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তেহরানে যান মোহসিন নাকভি। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর এটি তার ষষ্ঠ ইরান সফর।
বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও চাপ ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠতা ও যোগাযোগ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
ইরান ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনা এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাকভিও দুই দেশের সম্পর্কের প্রশংসা করেন। ইরান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক এখন যে পর্যায়ে রয়েছে, অতীতে কখনোই তা এতটা ভালো ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে কাতারের রাজধানী দোহায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন তিনি। সেখানে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন আরাগচি।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরির চেষ্টা করছে দোহা।
দুই দেশের মধ্যে আবারও আলোচনার পথ খুলতে কাতার মধ্যস্থতা করছে বলেও জানান তিনি। এমনকি, স্বল্পমেয়াদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরির জন্যও কাজ করছে তারা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে পেজেশকিয়ানেরও। নিউইয়র্ক সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পেজেশকিয়ান ও আরাগচিকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, ইরানের অন্য প্রতিনিধিদের ভ্রমণ ও কেনাকাটায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে মোকাবিলায় কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করছেন তিনি।
এর মধ্যে ইরানে আবারও ব্যাপক হামলা চালানো, দেশটির অর্থনীতি দুর্বল হতে দেওয়া কিংবা সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো বিকল্প রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়েও সম্ভবত রাজি হতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ১৭ জুন করা ৬০ দিনের সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরান ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে নতুন কিছু শর্ত দিয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।
ভোরের আকাশ/আ.র