কান্না-হাসি, যন্ত্রণা ও প্রশান্তি বিশ্বকাপ শেষে স্কালোনির অজানা অনুভূতি

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও কথা বলতে পারেননি কান্নায় ভেঙে পড়া এই কোচ। তবে সময়ের সঙ্গে সেই হতাশা কিছুটা কাটিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন খোলাচিঠি লিখেছেন তিনি।
বিশ্বকাপ শেষে নিজ জন্মস্থান সান্তা ফের পুখাতোয় কয়েকদিন কাটান স্কালোনি। সেখানে স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। চিঠিতে তিনি যেমন ফাইনালের পরের কষ্টের কথা বলেছেন, তেমনি তুলে ধরেছেন দলের লড়াই ও আত্মত্যাগের গল্প।
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া বার্তায় স্কালোনি লেখেন, “আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত, আপনাদের জন্য আরেকটি ট্রফি নিয়ে আসতে পারিনি।”
ফাইনালের পর নিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, “দুঃখ ও আনন্দ একসঙ্গে মিশে গেছে, কান্না ও হাসি, যন্ত্রণা ও প্রশান্তি—সবকিছু একসঙ্গে অনুভব করেছি।”
দলের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে স্কালোনি জানান, স্ত্রীকে দলের সদস্যদের কথা বলার সময় তিনি প্রায়ই তাদের ‘আমার যোদ্ধারা’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই দলের সবচেয়ে বড় অর্জন।
চিঠিতে তিনি সমালোচকদের নিয়েও কথা বলেছেন। যারা টুর্নামেন্ট চলাকালে দলকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাদের উদ্দেশে স্কালোনি লেখেন, “আমাদের চেনেও না এমন মানুষের কাছ থেকে বরফঠান্ডা পানির ধাক্কা সহ্য করতে হয়েছে।” তবে তার মতে, সেই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার ক্ষমতাই ছিল দলের আসল ‘ট্রফি’।
স্কালোনি আরও লিখেছেন, দলের সাফল্যের পেছনে ছিল খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম, জয়ের আকাঙ্ক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা। পা যখন আর শরীরের নির্দেশ মানতে চায় না, তখনও দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতাই তাদের আলাদা করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি কৃতজ্ঞতা জানান কোচিং স্টাফ, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দলের পেছনে নীরবে কাজ করা সবাইকে।
চিঠির শেষে স্কালোনি লেখেন, “যার একজন আর্জেন্টাইন বন্ধু আছে, তার কাছে একটি রত্ন আছে।” এই বাক্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এএফএ তাকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে রাখার জন্য নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা