কেনের জাদুকরী হ্যাটট্রিকে শিরোপা জিতালো বায়ার্ন

আরও একবার নিজের জাত চেনালেন হ্যারি কেন। ডিএফবি-পোকাল ফাইনালে স্টুটগার্টের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ওলিম্পিয়াস্টাডিয়নে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইংলিশ ফরোয়ার্ডের নিখুঁত ফিনিশিংই পার্থক্য গড়ে দেয়। এই জয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল মৌসুম শেষ করল ঘরোয়া ডাবল ট্রফি জয়ের মাধ্যমে, যা জার্মান ফুটবলে ব্যাভেরিয়ান জায়ান্টদের আধিপত্যের আরও একটি দৃষ্টান্ত।
শনিবার (২৩ মে) ডিএফবি-পোকাল ফাইনালে স্টুটগার্টকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বায়ার্ন মিউনিখ। বুন্দেসলিগায় আধিপত্যে ভরা এক মৌসুম শেষে ছয় বছর পর তারা আবারও ডিএফবি-পোকাল ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল। অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়ার পায়ের চোটের কারণে না থাকলেও জয় পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি জার্মান চ্যাম্পিয়নদের। এই জয়ে নিজেদের ইতিহাসে ১৪তমবারের মতো ঘরোয়া ডাবল সম্পন্ন করল বায়ার্ন।
ম্যাচের পুরো আলো কেড়ে নেন হ্যারি কেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন, এরপর শেষ দিকে আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে জশুয়া কিমিখ বলেন, “আমরা আনন্দিত ছিলাম অবশেষে বার্লিনে ফিরে আসতে পেরে। আমরা যে কোনো মূল্যে এখানে জিততে চেয়েছিলাম।”
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্টুটগার্ট সহজে হার মানেনি এবং শুরুতে দারুণ চাপ তৈরি করে। এই ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে ছিলেন জুলিয়ান নাগেলসম্যান এবং জোসে মরিনিয়োর মতো হাইপ্রোফাইল অতিথিরা। ম্যাক্সিমিলিয়ান মিটেলস্টাড্ট ও স্টুটগার্টের আক্রমণভাগ বারবার বায়ার্নের বদলি গোলরক্ষক জোনাস উরবিগকে পরীক্ষা নেয়। প্রথমার্ধে বায়ার্নকে ছন্দ খুঁজে পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়।
অবশেষে ৫৫তম মিনিটে গোলের সূচনা হয়। গ্যালারিতে আতশবাজির ধোঁয়ার মধ্যে মাইকেল ওলিসে নিখুঁত ক্রস বাড়ান, আর কেন কাছ থেকে হেডে গোল করেন। এটি ছিল তার অসাধারণ মৌসুমের ৫৯তম গোল।
স্টুটগার্টের স্ট্রাইকার দেনিজ উনদাভ বলেন, “আমরা বায়ার্নের জন্য ম্যাচটা কঠিন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হ্যারি কেনকে চোখের আড়াল করা যায় না। তবুও আমরা নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে পারি। বায়ার্নের কাছে হার মানার চেয়ে খারাপ কিছু নেই।”
কেনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোল আসে ৮০ ও ৯২তম মিনিটে, যার শেষটি ছিল পেনাল্টি থেকে। এতে চলতি মৌসুমে তার মোট গোল দাঁড়াল ৬১-তে। এই ৩-০ ব্যবধানের জয়ে বায়ার্ন এক মৌসুমে নিজেদের সর্বোচ্চ ৪৬ জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করল, যা এর আগে শুধুমাত্র ২০১২-১৩ সালের ট্রেবলজয়ী মৌসুমে হয়েছিল।
সাইডলাইনে না থাকলেও ম্যানুয়েল নয়ারের জন্যও এটি ছিল বিশেষ মুহূর্ত। এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক তার সপ্তম ডিএফবি-পোকাল শিরোপা জিতলেন, যা তাকে বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ীর তালিকায় রাখে। তিনি সতীর্থদের সঙ্গে ট্রফি উঁচিয়ে সমর্থকদের সামনে উদযাপন করেন।
ডিএফবি-পোকাল ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হয়ে জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন হ্যারি কেন। তিনি উয়ে সেলার, রোলান্ড উলফার্ট এবং রবার্ট লেভানডভস্কির মতো কিংবদন্তিদের তালিকায় যুক্ত হলেন।
এছাড়া তিনি ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একটি কাপ মৌসুমের ফাইনালসহ প্রতিটি রাউন্ডে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এই বিরল রেকর্ডে তিনি ডিটার মুলার (১৯৭৬-৭৭) এবং ডির্ক কুর্টেনবাখ (১৯৮৬-৮৭)-এর পাশে জায়গা করে নেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা ৯, যা কেবল বায়ার্ন কিংবদন্তি গার্ড মুলারের সর্বোচ্চ ১০ ও ১১ গোলের রেকর্ডের নিচে।
ভোরের আকাশ/সু.পা