আনচেলত্তির ভুল কৌশলেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ

মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর কার্লো আনচেলত্তির কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সেই ভুল শুধরে হাইতির বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করে ব্রাজিল। এরপর স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে তারা। জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয় দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রতি ম্যাচে উন্নতির ছাপ থাকলেও নকআউট পর্বে এসে আবারও ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের কাছে থামতে হলো সেলেসাওদের। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউটে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জয়হীন থাকার যে হতাশাজনক রেকর্ড, সেটি এবারও কাটাতে পারেনি ব্রাজিল। নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভিন্ন কৌশল নিয়ে মাঠে নামে আনচেলত্তির দল। প্রতিপক্ষকে বলের দখল ছেড়ে দিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু সেই পরিকল্পনা খুব একটা কার্যকর হয়নি। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত।
যদিও শটের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল ব্রাজিল, তবে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশিরভাগ সময় নরওয়ের দখলে। গোলরক্ষক অরইয়ান নাইলান্ড একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্রাজিলকে হতাশ করেন। অন্যদিকে সুযোগ পেলেই আঘাত হানতে প্রস্তুত ছিল নরওয়ে।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই বার্গের করা একটি গোল সোরলোথের অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে ব্রাজিলের কিছুটা সময় লাগে। পরে রায়ানের দারুণ প্রেসিং থেকে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি হয়। মার্তিনেল্লির পাসে কুনহা পেনাল্টি আদায় করেন। কিন্তু গিমারেসের নেওয়া স্পটকিক দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নাইলান্ড।
প্রথমার্ধে বলের দখল কম থাকলেও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে ব্রাজিল। বাম প্রান্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মার্তিনেল্লির সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা মেলেনি। অন্যদিকে নরওয়ে বলের দখল ধরে রাখলেও আক্রমণে খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি। ওডেগার্ডের একটি ভালো সুযোগ দারুণ সেভে রুখে দেন আলিসন।
বিরতির পরও একই পরিকল্পনায় খেলতে থাকে ব্রাজিল। বদলি হিসেবে নামার পর এন্দ্রিক গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এরপর ম্যাচ ধীরে ধীরে শারীরিক লড়াইয়ে রূপ নেয়।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটের দিকে আনচেলত্তির একাধিক পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের ছন্দ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। রায়ান ও মার্তিনেল্লিকে তুলে নেওয়ার পর মাঝমাঠ ও আক্রমণের সংযোগ ভেঙে পড়ে। সেই সুযোগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় নরওয়ে।
ক্রমাগত আক্রমণের পর শেলড্রুপের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। মাগালায়েসকে ফাঁকি দিয়ে ওঠা এই হেডে কোনো সুযোগই পাননি আলিসন। পরে বাঁ পায়ের জোরালো শটে আরও একটি গোল করে ম্যাচ নিশ্চিত করেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার।
শেষদিকে ব্রাজিল সংগঠিত আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। বরং বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও বিপাকে পড়ে দলটি। পুরো ম্যাচে তাদের বল দখলের হার ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের সর্বনিম্ন।
সব মিলিয়ে সুযোগ নষ্ট, পেনাল্টি মিস এবং আনচেলত্তির কৌশলগত ব্যর্থতাই ব্রাজিলের বিদায়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে নরওয়ে নিজেদের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করে এবং হালান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিশ্চিত করে স্মরণীয় এক জয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা