সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার পাঠের সওয়াব ও ফজিলত

মানবজীবনে না চাওয়া সত্ত্বেও ছোট-বড় নানা পাপ বা ভুলত্রুটি হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে বুদ্ধিমান ও খাঁটি মুমিন তিনিই, যিনি ভুলের পরপরই মহান আল্লাহর দরবারে তাওবা ও ইস্তেগফার করেন। পাপ মোচন ও আল্লাহর ক্ষমা লাভের যত দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ও মর্যাদাপূর্ণ দোয়া হলো ‘সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া)।
রাসুলুল্লাহ ﷺ এই দোয়াটিকে ইস্তেগফারের ‘সরদার’ বা প্রধান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সহীহ হাদিসের আলোকে এই দোয়ার অলৌকিক ফজিলত ও তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জান্নাত লাভের নিশ্চিত গ্যারান্টি
সাইয়্যিদুল ইস্তেগফারের সবচেয়ে বড় ও অনন্য ফজিলত হলো এটি পাঠকারীর জন্য জান্নাতের ওয়াদা। যদি কোনো বান্দা পূর্ণ বিশ্বাস ও অর্থ অনুধাবন করে দিনে বা রাতে এটি পাঠ করে এবং ওই সময়েই তার মৃত্যু হয়, তবে সে জান্নাতবাসী হবে।
হযরত সাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের বেলায় এই দোয়া পাঠ করবে এবং ওই দিন সন্ধ্যার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে রাতের বেলায় পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগেই মারা যাবে, সেও জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ৬৩০৬)
২. সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার (আরবি ও বাংলা উচ্চারণ)
আরবি:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ।
বাংলা উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাতাতু, আ‘উজু বিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযানবি ফাগফিরলি, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।’
বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব বা প্রতিপালক, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আমি আমার সাধ্যানুযায়ী আপনার সাথে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর কায়েম আছি। আমি আমার কৃতকর্মের মন্দ বা অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার প্রদত্ত নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার পাপের কথা স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন; কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না।”
৩. কেন এটি ইস্তেগফারের শ্রেষ্ঠ দোয়া?
আলেমদের মতে, এই দোয়াটিতে ইসলামের মৌলিক তাওহীদ, আল্লাহর দাসত্ব, নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং নিজের পাপ স্বীকার—সবকিছু একসাথে এত চমৎকারভাবে রূপায়িত হয়েছে যা অন্য কোনো দোয়ায় নেই। এতে আল্লাহর দরবারে নিজের চরম বিনয় প্রকাশ পায়, যা ক্ষমার মূল শর্ত।
প্রতিদিন সকালে (ফজরের পর) এবং সন্ধ্যায় (মাগরিবের পর) অন্তত একবার হলেও সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার পাঠ করা আমাদের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। চিরস্থায়ী জান্নাতের মেহমান হওয়ার এমন সহজ অথচ মহান সুবর্ণ সুযোগ কোনো মুমিনের অবহেলা করা উচিত নয়।
ভোরের আকাশ/জেআ