ঈদুল আজহা
পশুর হাটে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশের পশুর হাটের ইজারা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পশুর হাটের ইজারা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে পশুর হাটের আধিপত্য বজায় রাখতে পর্দার আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এই দুই দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রভাব জাহির করার অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে পশুর হাটের ইজারা। ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় উপদলগুলোর মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য লড়াই শুরু হয়েছে। মূলত হাটের হাসিল বা কমিশন থেকে প্রাপ্ত বড় অঙ্কের অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই প্রতিযোগিতার সূত্রপাত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একই হাটের ইজারা পেতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আলাদা আলাদা সিন্ডিকেট দরপত্রে অংশ নিচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে এবার গাবতলী স্থায়ী হাটসহ বেশ কিছু অস্থায়ী হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঠিকাদারদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও এবার দৃশ্যপট বদলেছে। এবার দরপত্র জমা দেওয়ার তালিকায় বিএনপি ও জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের বড় হাটগুলো এবং গাবতলী হাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মেরুকরণ চলছে। কেবল রাজধানী নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এই রেষারেষি ছড়িয়ে পড়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের চাঙ্গা করতেই অনেক নেতা ইজারা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ পাওয়ার চেষ্টা থেমে নেই। অনেক জায়গায় বিএনপি এবং জামায়াতের স্থানীয় নেতারা জোটবদ্ধ না হয়ে বরং একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হবে। এখানে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। তবে সাধারণ ক্রেতারা চান একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যেখানে কোনো ধরনের অতিরিক্ত হাসিল ছাড়াই তারা পশু ক্রয় করতে পারবেন। বিএনপি ও জামায়াতের এই দ্বিমুখী প্রতিযোগিতা যেন কোরবানির হাটের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শৃঙ্খলা নষ্ট না করে, এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাটগুলোতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে জামায়াতের পাশাপাশি এনসিপির নেতাদেরও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তবে ঢাকা উত্তর সিটিতে (ডিএনসিসি) বিএনপির একচেটিয়া আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার অন্তত দুই ডজন অস্থায়ী হাট বাসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পাঁচ দিন কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য এসব অস্থায়ী হাট বসানো হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে। বেশিরভাগ হাটে তীব্র প্রতিযোগিতা হলেও ডিএসসিসির দুটি এবং ডিএনসিসির চারটি হাটে কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার কারণে এটা হয়েছে বলে জানা গেছে। সিন্ডিকেট করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে হাটগুলো ইজারা নিয়ে যাওয়া হয়।
এতে সিটি করপোরেশনগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বৃহস্পতিবার ডিএসসিসির ১২টি অস্থায়ী হাটের দরপত্র বাক্স খোলা হয়। ইজারাদার ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্ধারণ করা হয়। যেসব হাটে সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া যায়নি সেগুলো দ্বিতীয় ধাপে টেন্ডারে যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এ বছর বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি জামায়াত নেতারাও হাটের ইজারা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামার কারণে ভালো দর পাওয়া গেছে।
ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ‘দনিয়া কলেজের পূর্ব পার্শ্বে ও সনটেক মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব-পশ্চিমের খালি জায়গা’ নামের হাটটি স্থানীয় বিএনপির নেতা তারিকুল ইসলাম তারেক ইজারা নেন। তবে পেছনে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক নেতা নবীউল্লাহ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক কাউন্সিলর জুম্মন। এ বছর তারেক দরপত্রের জন্য এক কোটি ৫৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দিলেও কোনো দর উল্লেখ করেননি। এ হাটের জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতা শামীম খানের প্রতিষ্ঠান কে বি ট্রেড সর্বোচ্চ চার কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর দিয়েছে। করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ দর উন্মুক্তের সময় এ হাটটি চূড়ান্ত না করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সর্বোচ্চ পে-অর্ডার দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিকে দর জানাতে সিটি করপোরেশন থেকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
‘পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের নদীর পাড়ের খালি জায়গা’ পশুর হাটটির এ বছর সরকারি মূল্য ছিল দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা। কাজী মাহবুব মওলা হিমেল হাটটি চার কোটি এক লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সমর্থনে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন হাটটিতে তিন কোটি ৩১ লাখ টাকা দর দিয়েছিলেন। আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গার সরকারি মূল্য ছিল ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। এ বছর তা কমিয়ে ৫৩ লাখ টাকা করা হয়। গত বছর হাটটি ডেমরা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদিন রতন ৫৫ লাখ টাকায় নেন। এ বছর হাটটি তিনি দুই কোটি ১৫ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এই হাটের দরপত্রেও জামায়াতের নেতারা প্রতিযোগিতা করেছেন।
গোলাপবাগ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গার সরকারি মূল্য ছিল ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। ছয়টি দরপত্রের মধ্যে দুই কোটি পাঁচ লাখ টাকায় আহসানউল্লাহ নামে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাটটির ইজারা নিয়েছেন। এই হাটে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা পৃথক ইজারা দর দিয়েছিলেন। বিভিন্ন হাট ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত ২৭ এপ্রিল ডিএসসিসি নগর ভবনের সম্পত্তি বিভাগে যাত্রাবাড়ীর ‘কাজলা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এবং শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন খালি জায়াগা’ হাটের দরপত্র সংগ্রহ করতে এলে শ্যামপুর থানা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শ্যামপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিমেল, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি নেতা শ্যামলের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তী সময়ে ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে দরপত্র বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। দরপত্র উন্মুক্তের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারও নগর ভবনে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেছে।
ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তার দাবি করেছেন, দরপত্র বিক্রি ও জমাদানে একাধিক বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে নগর ভবনে বেশ কয়েকদিন উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা যায়। তবে অধিকাংশ হাটে একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেওয়ায় দরপত্রে প্রতিযোগিতা হয়েছে। ডিএসসিসির পশুর হাটে দুই দশক পরে এমন প্রতিযোগিতা দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের এক নেতা জানান, এবার পশুর হাটসহ বিভিন্ন জায়গায় তাদের নেতাকর্মীরা ইজারায় অংশ নেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময়ে তারা কোনো ধরনের সরকারি দরপত্রের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। এ বছর ডিএসসিসির অন্তত দুটি হাটে দরপত্র কিনেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বৈধ যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে সংগঠন থেকে কোনো বাধা নেই বলেও জানান এ নেতা।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইজারার দর উন্মুক্ত করা ডিএসসিসির হাটের মধ্যে দুটি হাটে সিন্ডিকেটের কারণে কোনো দরই জমা পড়েনি, আরেকটি হাটে সরকারি মূল্যের চেয়েও দর কম পড়েছে। তা ছাড়া কৌশলে হাটের নাম পরিবর্তন করে সিটি করপোরেশন থেকেই দর কমিয়ে ধরা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ডিএনসিসির দুটি হাটে একটি করে দরপত্র জমা হয়েছে আর চারটিতে কোনো দরপত্রই পড়েনি। সবমিলিয়ে ঢাকার ৯টি হাট সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে।
‘যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বের খালি জায়গা’ অস্থায়ী হাটের সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে তিন কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আগের বছর এই হাটের সরকারি মূল্য ছিল চার কোটি ৭২ লাখ টাকা। শুধু খাতা-কলমে ‘দনিয়া কলেজের পূর্ব পার্শ্বে ও সনটেক মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব পশ্চিমের খালি জায়গা’ নামের পরিবর্তে ‘মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বের খালি জায়গা’ নাম নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এ বছর এক কোটি টাকা কম মূল্যে টেন্ডার আহ্বান করে ডিএসসিসি।
হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজের পূর্ব পার্শ্বের খালি জায়গা’ অস্থায়ী পশুর হাটের সরকারি মূল্য ছিল চার কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এ বছর এই অস্থায়ী হাটটি কলেজের সামনে থেকে ‘শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা’তে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতেই হাটটির ৭৪ লাখ টাকা কমে সরকারি মূল্য চার কোটি ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বছর হাটটি চার কোটি ৯৫ লাখ টাকায় ইজারা যায়। এ বছর একই প্রতিষ্ঠান সরকারি মূল্যের চেয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা বেশি দিয়ে ইজারা নিয়েছে। ‘উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা’ পশুর হাটের গত বছরের সরকারি মূল্য ছিল এক কোটি ৮২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪। চলতি বছর সরকারি মূল্য কমিয়ে এক কোটি ৭৪ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৪ টাকা করা হয়। সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সিকদার কনস্ট্রাকশনের আনিসুর রহমান টিপু এ বছর তিন কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন।
এদিকে ডিএনসিসির ১২টি হাটের মধ্যে ‘উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকার খালি জায়গা’ হাটে সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এফ করপোরেশনের মালিক শেখ ফরিদ হোসেন। তিনি হাটটির জন্য সর্বোচ্চ ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা দর দিয়েছেন।
‘মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিমপাড়ার খালি জায়গা’ এবং ‘ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত খালি জায়গা’ এ দুই হাটের জন্য একটি করে দরপত্র পেয়েছে ডিএনসিসি। এর মধ্যে ৯৩ লাখ ২২ হাজার টাকা মূল্যের মস্তুল হাটের জন্য বিল্লাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি দর দিয়েছেন তিন কোটি ৬০ হাজার টাকা। তবে রানাভোলা হাটের জন্য সরকার নির্ধারিত দর ৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা।
একমাত্র দরদাতা মেসার্স লামিয়া এন্টারপ্রাইজের নূর আলম দর দিয়েছেন ৮৮ লাখ টাকা। খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন খালি জায়গা এবং ভাটারা সুতিভোলা খাল অস্থায়ী হাটের জন্য কোনো দরপত্র জমা পড়েনি।
দরপত্র খোলার সময় ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরদাতাদের দেওয়া পে-অর্ডারসহ যাবতীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই করবে। কোনো হাটের দরপত্র নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিত দিতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, যেসব হাটের জন্য কোনো দর পাওয়া যায়নি, সেগুলোর জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।
দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, তিন ধাপে দুই সপ্তাহের মধ্যে পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তা ছাড়া রাজধানীর দুই স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী ও সরুলিয়াতে যথারীতি কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে।
ভোরের আকাশ/নি