খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে বিভিন্ন পেশার মানুষ

ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীত উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শনিবারও আপোসহীন নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, ভোর থেকেই কবরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। জিয়া উদ্যানের বেইলি ব্রিজ থেকে জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার কবর পর্যন্ত মানুষের দীর্ঘ লাইন। প্রিয় নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা পেশার মানুষ ছুটে আসছেন। এ সময় তারা দোয়া ও মোনাজাত করছেন।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ জনগন বলছেন, বিএনপির প্রায়াত চেয়ারপারসন দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেছেন, গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত বেগম জিয়া কষ্ট করে গেছেন- তাই আল্লাহর কাছে চাওয়া তাকে যেন জান্নাত দান করেন। এ ছাড়া তিনি শুধু দেশের নেতা নন, তিনি বিশ্ব নেতা। নতুন প্রজন্ম খালেদা জিয়ার চেতনাকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশাই করছেন তারা। সকাল সাড়ে ১১টায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর, জাতীয় ঐক্যর প্রতীক ও আপোসহীন নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করছেন জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিসহ নেতৃবৃন্দ। এসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা বেগম খালেদ জিয়ার এর সমাধিতে শ্রদ্ধা ও ফাতেহা পাঠসহ দোয়া ও মোনাজাত করেন তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকন, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম. ঢাকা জেলার সভাপতি হৃদয় ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সিরাজ হাওলাদার এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও জাতীয়তাবাদী তৃণমূল দল, জাতীয়তাবাদী সমবায় দল এবং জিয়া সাংস্কৃতিক ফোরাম নামে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়াও অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কবর জিয়ারত করছেন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে এসেছেন যুবদল কর্মী শিপন আবেদীন।
তিনি বলেন, বুঝতে যখন শিখেছি, তখনই খালেদা জিয়াকে দেখেছি। তার বিভিন্ন সমাবেশে গিয়েছি। বক্তব্য শুনেছি। তাই তার মৃত্যুকে সহজভাবে মেনে নিতে পারিনি। এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই কবর জিয়ারত করতে এসেছি। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক ২রা জানুয়ারি শেষ হলেও এখনও চলছে দলীয় ঘোষিত ৭ দিনের শোক। ঢাকার শনির আখড়া থেকে দুই সন্তান রাফি ও রাইসাকে নিয়ে কবর জিয়ারত করতে এসেছেন মেঘলা বেগম।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। তাই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসলাম। তাকে যেন মহান আল্লাহ বেহেশত দান করেন সে দোয়া করছি।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির চেয়ারপারসন। পর দিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম জিয়াকে দাফন করা হয়।
ভোরের আকাশ/এসএইচ