পিরোজপুরের চড়ুই পাখির দলগুলি

প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানান কারনে চিরচেনা চড়ুই পাখি এখন প্রায় বিলপ্তির পথে। আগের মতো বাসা-বাড়ির জানালা বা ছাদে এখন আর চড়ুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনা যায় না। তবে পিরোজপুর সদর হাসপাতাল গেট সংলগ্ন সড়কের বৈদ্যুতিক পিলারে ও তারে দীর্ঘ কয়েক বছর দরে গড়ে উঠেছে চড়ুই পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্হল।
প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই এসে জড়ো হয়। তাদের কিচিরমিচির, ডানা ঝাপটানো আর দলবেঁধে ওড়াউড়িতে মুখর হয়ে ওঠে হাসপাতাল সংলগ্ন জেলা সদরের প্রধান সড়কটিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ মুহূর্তে হঠাৎ করেই আকাশে দেখা দেয় ছোট ছোট পাখির ঝাঁক। মুহূর্তেই ভরে যায় চড়ুইয়ে দল। কেউ তারে বসে ডাকছে, কেউ আবার খাম্বা থেকে তারে উড়ে যাচ্ছে। কখনো দল বেঁধে আকাশে চক্কর দিচ্ছে, আবার মুহূর্তেই ফিরে আসছে আশ্রয়স্থলে।চড়ুইদের এমন চঞ্চলতায় পুরো এলাকা যেন হয়ে ওঠে ছোট্ট এক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য। ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরাও অনেক সময় থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন পাখিদের এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোরের আলো ফুটতেই চড়ুইয়ের দলগুলো খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পড়ন্ত বিকেলে আবার ফিরে আসে। দিনের পর দিন একই নিয়মে ফিরে আসায় জায়গাটি যেন তাদের স্থায়ী নিরাপদ নীড় হয়ে উঠেছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত মুসফিকুর রহমান নাঈম বলেন, প্রতিদিন বিকেলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই এখানে এসে জড়ো হয়। সন্ধ্যার আগে বৈদ্যুতিক পিলারে ও তারে নামার পর চারপাশ কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে। পাখিগুলোর এমন দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে। মনে হয় শহরের মধ্যেই যেন একটি পাখির অভয়ারণ্য।
ভ্রমন পিপাসু ফারুক আহমেদ স্বপন জানান,এই সড়ক দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করি। চড়ুই পাখির কলরব শুনলেই এখানে একটু থেমে দাঁড়াই। এতগুলো পাখি একসঙ্গে দেখা সত্যিই দারুন লাগে। প্রকৃতির এমন দৃশ্য এখন খুব বেশি চোখে পড়ে না।চড়ুই শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রজননকালীন সময়ে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় ও তাদের লার্ভা খেয়ে এরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। ফলে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও পাখিটির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
- ভোরের আকাশ/ এনউব