মাতামুহুরিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গরুর বাজার চালানোর অভিযোগ

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ইলিশিয়া গরুর বাজার অপসারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে বাজারের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই আদালতের নির্দেশনার পরও বাজার পরিচালনা করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে গরুর বাজার বসছে। বাজার পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বাজারটি বন্ধের দাবিতে চকরিয়া পৌরসভার গণেশ্যাম বাজার এলাকার দলিল আহমদের ছেলে শামীম ওসমান বাদী হয়ে গত ১৭ মে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার রিট পিটিশন নং-৯৯৪৫/২০২৬। উক্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক ইলিশিয়া গরুর বাজার অপসারণের নির্দেশনা দিয়ে আদেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন রিটকারী শামীম ওসমান।
তবে আদালতের ওই নির্দেশনার পরও বাজারের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের স্বার্থে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাজার চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে বসেছে বিশাল গরুর বাজার। বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা গরু সেখানে কেনাবেচা হচ্ছে। বাজার ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতিও দেখা যায়।
বাজার বসার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বাজারের দিন বিদ্যালয়ের আশপাশে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। এতে স্বাভাবিক চলাচলে সমস্যা হয়। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময়ও তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজারের কার্যক্রম বন্ধ করে আদেশ বাস্তবায়ন করা উচিত। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ব্যক্তি বা মহল যাতে বাজার পরিচালনা করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তাদের আরও অভিযোগ, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে বাজার পরিচালনাকারীরা আরও উৎসাহিত হতে পারেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, আদালতের একটি নির্দেশনা হাতে এসেছে। এ বিষয়ে লিখিত জবাব দেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/এনউব