ছয় লাখ মানুষের জন্য নেই একটি আইসিইউ, নদী পেরিয়ে চিকিৎসা

ভোলা জেলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার প্রায় ছয় লাখের বেশি মানুষের জন্য নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রতিনিয়ত ছুটতে হচ্ছে দূরবর্তী জেলা বা বিভাগীয় হাসপাতালে। বিশেষ করে রাতের বেলা বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াই জীবন-মৃত্যুর প্রধান ব্যবধান হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা মিলিয়ে মোট জনসংখ্যা ৬ লাখ ৮ হাজার ৫৬২ জন। এ ছাড়া চর কুকরি-মুকরি, মুজিবনগরসহ আশপাশের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও দ্বীপের বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য চরফ্যাশনের ওপরই নির্ভরশীল। বাস্তবে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি।
স্থানীয় ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হৃদ্রোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা, তীব্র শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রসূতি জটিলতার মতো সংকটাপন্ন অবস্থায় রোগীকে বাঁচাতে আইসিইউ অপরিহার্য। কিন্তু চরফ্যাশনে সেই সুবিধা না থাকায় রেফার করা ছাড়া চিকিৎসকদের আর কোনো উপায় থাকে না। চরফ্যাশনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে অ্যাম্বুলেন্স বা নৌপথে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় পথেই অনেক রোগীর মৃত্যু ঘটে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নবজাতক ও শিশুরা। মারাত্মক সংক্রমণ, খিঁচুনি কিংবা জটিলতায় পড়া শিশুদের জন্য এনআইসিইউ বা পৃথক আইসিইউ না থাকায় কোলে অসুস্থ শিশু নিয়ে মা-বাবাকে পাড়ি দিতে হচ্ছে দীর্ঘ নদী ও সড়কপথ।
উপকূলীয় এই নদীবেষ্টিত বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষায় চরফ্যাশনে জরুরি ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য পৃথক আধুনিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভোরের আকাশ/আ.র