বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চশিক্ষা অংশীদারিত্বে নতুন অগ্রযাত্রা
বাকৃবিতে দ্বৈত ডিগ্রি নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে মতবিনিময়

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দ্বৈত ডিগ্রি (Dual Degree) কর্মসূচির জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা কাঠামো প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
শনিবার (২০ জুন ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল গেস্ট হাউস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসন, অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট, উজবেকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব তাসখন্দের আন্তর্জাতিক কৃষি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ফুলব্রাইট বিশেষজ্ঞ ড. গ্রেস মুকুম্পা।
সভায় ড. গ্রেস মুকুম্পা বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বৈত ডিগ্রি কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের শুধু আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা অর্জনের সুযোগই দেবে না, বরং তাদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশে দ্বৈত ডিগ্রি কর্মসূচির জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালার মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, যৌথ গবেষণা, ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলো একটি সুসংহত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিকীকরণের বিকল্প নেই। একটি কার্যকর দ্বৈত ডিগ্রি নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সরাসরি একাডেমিক সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবে। এতে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মান আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যৌথ ও দ্বৈত ডিগ্রি কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ছাড়াই আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, প্রোক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান, ভেটেরিনারি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান, কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম, অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম, আইআইএফএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম, রেজিস্ট্রার ড. হেলাল উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময়ে অংশ নেন ড. গ্রেস মুকুম্পা। এ সময় তারা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্বৈত ডিগ্রি কর্মসূচির জন্য জাতীয় নীতিমালা চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারবে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক মানের শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।