পঞ্চগড়ে আগাম শীতের আমেজ, ভোরে কুয়াশা-শিশির

দেশের সর্বউত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে এরই মধ্যে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। মধ্যরাতের পর বাড়ছে ঠান্ডার অনুভূতি। ভোরের প্রকৃতিতে দেখা মিলছে কুয়াশা ও শিশিরের। প্রকৃতির এমন আগাম বার্তায় পঞ্চগড়ে যেন শীতের আগমনী সুর বাজতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন ২৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে সোমবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার আমেজ পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই মধ্যরাত থেকে কিছুটা ঠান্ডা বাতাস অনুভূত হচ্ছে। ভোরে দেখা যাচ্ছে কুয়াশা ও শিশির। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু, চারপাশের কুয়াশার আবরণ ও উত্তরের হিমেল বাতাসে মিলছে ঋতু বদলের আগাম বার্তা।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি আগেভাগেই শুরু হয়। বিশেষ করে ভোর ও রাতের দিকে ঠান্ডার মাত্রা বেশি অনুভূত হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
শুড়িভিটা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, সকালে রাস্তাঘাট কুয়াশায় ঢেকে থাকে। উত্তরের দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে শরীরে শীতের পরশ অনুভূত হচ্ছে। পঞ্চগড়ের ভোর যেন আগেভাগেই জানান দিচ্ছে, শীত আসছে।
রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জেলায় এখনই শীতের অনুভূতি শুরু হয়েছে। তবে শীত বাড়লে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোর হলেই পাথর ও চা শ্রমিক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ কাজে বেরিয়ে পড়েন। হিমেল বাতাস ও কুয়াশার মধ্যেই নদী থেকে পাথর তোলা এবং শিশিরভেজা চা-পাতা সংগ্রহ করতে হয় তাদের।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, শীত মৌসুমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। মৌসুমের বেশিরভাগ দিনেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড হয়। শীতের সময় তাপমাত্রার পারদ এক অঙ্কের ঘরেও নেমে আসে।
ভোরের আকাশ/জেআ