কৃষিকাজে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি চান নওগাঁর কৃষকেরা

কৃষি উৎপাদন ব্যয় দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে চাপে পড়েছেন নওগাঁর কৃষকেরা। সেচ, জমি চাষ, ফসল পরিবহনসহ কৃষিকাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদন খরচে।
কৃষকেরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরির পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাড়তি দামে চাষাবাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অথচ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বাড়তি খরচের অর্থ তুলতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কাও বাড়ছে। এ অবস্থায় কৃষিকাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের জন্য বিশেষ ভর্তুকি অথবা কৃষকদের জন্য কম দামে ডিজেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা গেলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং চাষাবাদে লোকসানের ঝুঁকিও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
জেলার মান্দা, পোরশা ও ধামইরহাট উপজেলার কৃষক আব্দুল মতিন, সোহরাব হোসেন ও জামিরুল আলী বলেন, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ কৃষির বিভিন্ন উপকরণের ব্যয় এমনিতেই বেড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাষাবাদ আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। তাই কৃষকদের স্বার্থে জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন।
নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, কৃষকদের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে। জ্বালানি তেলের বিষয়েও কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে কোনো সহায়তা বা সমাধানের সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে।
ভোরের আকাশ/ ইউএম