শিরোনাম
চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলাচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

অতীতের ব্যর্থতা পেরিয়ে চট্টগ্রামে উন্নয়নের নতুন গতি

বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও সমুদ্রবন্দর নগরী, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার নানা সংকটে ভুগছে। 

দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার হওয়া সত্ত্বেও এই নগরীর মানুষ বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা, যানজট, খাল দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আসায় নগরবাসীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরের মুরাদপুর, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি হয় এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু প্রকল্প নেওয়া হলেও খাল উদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকর উন্নয়ন হয়নি।

যানজটও চট্টগ্রাম নগরীর আরেকটি বড় সংকট। প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ দখল, ফুটপাত দখল এবং অপ্রতুল গণপরিবহনের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় আটকে থাকছেন। বিশেষ করে অফিস সময় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে নগরের বিভিন্ন অংশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিকল্পনার ঘাটতি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল একটি বড় সমস্যা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পৃথকভাবে প্রকল্প নিলেও কার্যকর সমন্বয় না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও নাগরিক সুবিধা আশানুরূপভাবে বাড়েনি।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দেশের প্রধান বন্দরনগরী হওয়া সত্ত্বেও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে।

এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগকে ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাল উদ্ধার অভিযান জোরদার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নগর পরিকল্পনায় সমন্বয় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এবার শুধু পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নগরবাসীর মধ্যেও এই উদ্যোগকে ঘিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার পর এবার যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে চট্টগ্রামের চিত্র পরিবর্তন সম্ভব। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা ও যানজট সমস্যার সমাধান হলে নগরজীবনে বড় স্বস্তি ফিরে আসবে।

অর্থনীতিবিদ ও নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। তাই এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে পুরো দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বে-টার্মিনাল এবং বন্দর আধুনিকায়নের মতো প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা নিশ্চিত করা যায়, তাহলেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নগর গবেষক বলেন, “চট্টগ্রাম শুধু একটি শহর নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের কেন্দ্র। তাই এখানে উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

আরও পড়ুন

হবিগঞ্জে দুই কোটি টাকা মুল্যের ভারতীয় গলদা চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম এখন এক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অতীতের অব্যবস্থাপনার পর নতুন সরকারের উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। 

এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবে রূপ নেয় এবং চট্টগ্রাম সত্যিই একটি বাসযোগ্য, আধুনিক নগরীতে পরিণত হতে পারে কি না।

ভোরের আকাশ/ র.ই

চট্টগ্রামবাকি বিল্লাহ চৌধুরী

শেয়ার করুন: