শিরোনাম
চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলাচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

খুলনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, রেড জোন ১০ ওয়ার্ড

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বেড়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পক্ষ থেকে মশক নিধন, ওষুধ ছিটানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এডিস মশার উপদ্রব কমছে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরীর ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালে ২০৯ জন ও বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে ৩৭ জনসহ মোট ২৪৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ১১৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৬ জন।

অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ২৩ জন, সাতক্ষীরায় ২০ জন, বাগেরহাটে ১৬ জন, নড়াইলে ৭ জন, ঝিনাইদহে ৭ জন, কুষ্টিয়ায় ৫ জন, মেহেরপুরে ৩ জন ও মাগুরায় ৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে চুয়াডাঙ্গায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৪ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ১৮৮ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ২০ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৭৩৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে খুলনা জেলাতেই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাগেরহাটে মারা গেছেন একজন। বছরের প্রথম সাত মাসে ৮ জনের মৃত্যু হলেও শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ১২ জন।

সবচেয়ে বেশি রোগীর চাপ রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১ হাজার ৪৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৮১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খুমেক হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় বারান্দা, মেঝে ও করিডোরে বেড বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডেও রোগীর চাপ বেড়েছে। এতে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।

একটি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. হামিদুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১৫টি নির্ধারিত বেড থাকলেও বর্তমানে সেখানে ৫২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খুলনার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হোসেন আলী জানান, ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে একক বেড দেওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আইসোলেশন ইউনিটে অন্তত পাঁচটি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নরমাল স্যালাইন, খাবার স্যালাইন, প্যারাসিটামলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মশারি মজুত রয়েছে। উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটও পর্যাপ্ত রয়েছে।

খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শওকত আলী বলেন, এডিস মশা এখন শুধু স্বচ্ছ পানিতে নয়, ময়লাযুক্ত পানিতেও বংশবিস্তার করছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি মেডিকেল টিম গঠন করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোও মাঠে নেমেছে। খুলনাকে ‘মহামারি এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো, লিফলেট বিতরণ, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং ও সেবাকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। মশক নিধনের পাশাপাশি চিকিৎসকদের সহযোগিতায় আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আড়ংঘাটা থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্রমণ ও লার্ভার ঘনত্ব বিবেচনায় কেসিসি নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে। রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ১৭, ১৮, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে।

এ ছাড়া ১, ১৯, ২৬ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে অতিসংক্রামক এবং ২, ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডকে মৃদু আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৭, ২২ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে কেসিসির ফ্রি ক্যাম্পে নাপা ও স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে।

মশার লার্ভা নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে ৩১টি ওয়ার্ডে অতিরিক্ত পাঁচজন করে স্প্রেম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ড্রেন, জলাবদ্ধ এলাকা ও বাড়ির অভ্যন্তরীণ ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে ওষুধ ছিটিয়ে লার্ভা ধ্বংসের কাজ করছেন। চলতি মাসজুড়ে এ কার্যক্রম চলবে।

মঙ্গলবার থেকে নগরীতে মশার লার্ভা নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় টুটপাড়া কবরস্থান মোড়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

আরও পড়ুন

বাঞ্ছারামপুরে আগুনে সর্বস্ব হারাল দুই পরিবার, ২০ লাখ টাকার ক্ষতি

কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শামিউল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত নাপা ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। মশক নিধনে তিনটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি কাজ করছে। সকালে ‘অ্যাবেট’ স্প্রে ও বিকেলে ফগিং করা হচ্ছে। কোথাও মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।

কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, টব ও ছাদ পরিষ্কার রেখে লার্ভামুক্ত পরিবেশ তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: