চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি নেতাকে ছাত্রদল নেতা বানিয়ে বহিষ্কারের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির এক সক্রিয় নেতাকে ছাত্রদলের পদধারী বানিয়ে বহিষ্কার করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এই অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ তোলা হয়, তারা সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, বহিষ্কৃতদের তালিকায় থাকা মো. মুন্না ছাত্রদলের কোনো কমিটির সদস্যই নন; বরং তিনি ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত।
ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মো. মুন্না আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমার পরিবারের সবাই বিএনপি করে, সেই সূত্রেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। দীর্ঘ ১৭ বছরে আমার বিরুদ্ধে ১৭টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে, ৬ বার জেল খেটেছি। রাজশাহীতে আমাকে দুই দিন গুম করে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে, যার ফলে আমি শারীরিকভাবে পঙ্গু প্রায়।
অথচ এখন আমাকে ছাত্রদলের নেতা বানিয়ে বহিষ্কারের নাটক সাজানো হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও এই বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।" ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দুরুল হোদা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "মুন্না আমাদের মূল দলের (বিএনপি) নেতা। অথচ তাকে কীভাবে ছাত্রদলের নেতা বানিয়ে বহিষ্কার করা হলো তা আমাদের জানা নেই।
এটি কুচক্রী মহলের কাজ। মুন্না দলের জন্য নিজের জমি ও কোরবানির খাসি বিক্রি করে মামলার খরচ চালিয়েছেন। শাহজাহান ভাই (বিএনপি নেতা) আসার পর কিছু আইনি সহায়তা পেলেও বাকিটা তাকেই বহন করতে হয়েছে।"
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে এই সাংগঠনিক বিভ্রান্তি দূর করে মুন্নার রাজনৈতিক ত্যাগের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, স্থানীয় যুবদল সভাপতি ইয়াসিন আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
ভোরের আকাশ/ র.ই