পাহাড়ি নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ

দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে বিশেষ স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি জোন।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ভাইবোনছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক কিশোরী ও নারী অংশগ্রহণ করেন। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে এসিআই লিমিটেডের ‘ফ্রিডম’ স্যানিটারি ন্যাপকিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান বলেন, পাহাড়ে বসবাসকারী অনেক নারী ও বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোরী স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক সংকোচের কারণে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকেই পাহাড়ি নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে।
জোন কমান্ডার আরও বলেন, অনেক কিশোরী মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। আবার সামাজিক ট্যাবুর কারণে অনেকেই নিজেদের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারেন না। তাই সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কর্মশালায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, প্রজনন স্বাস্থ্য, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের সহজ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে এখনও মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা কুসংস্কার ও ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এসব ভুল ধারণা দূর করে স্বাস্থ্যসম্মত মাসিক ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়ে তুলতেই এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি কিশোরী ও নারীরা স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতন হবেন এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
ভোরের আকাশ/জেআ