খুলনা রুপসাঘাটের অনিয়ম থামেনি

খুলনার ব্যস্ততম রূপসা ঘাটের অনিয়ম অব্যবস্থাপনা নিয়ে আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয় এমপি আজিজুল বারী হেলাল। মন্ত্রীও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্দেশ দিলেন জেলা প্রশাসককে। যথারীতি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘাট পরিদর্শন করে সতর্ক করলেন সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি অনিয়ম। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে বিআইডব্লিউটিএ’র তালিকা অনুযায়ী তারা পণ্যের টোল আদায় করছে।
খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক তার দপ্তরের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গত বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রূপসা ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় ঘাটে কোন ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি হচ্ছে কিনা মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়।
এর আগে গত সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, সব থেকে আমি সমস্যায় থাকি এই রূপসা ঘাট নিয়ে। আমি বিগত পুলিশ কমিশনারকে বলেছি, এবারের পুলিশ কমিশনারকেও বলেছি। ডিআইজি সাহেবকে বলেছি, বর্তমান এসপি ও আগের এসপিকেও বলেছি। ওই রূপসা ঘাটে হরিলুট হচ্ছে। একজন লোক একটা ব্যাগ নিয়ে পার হতে গেলে ওই ব্যাগের উপর ট্যাক্স ধরা হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন ভ্যাট অফিসার বা ট্যাক্স অফিসার। একজন লোক একটা মুরগি নিয়ে পার হচ্ছে, ওই মুরগির উপর ট্যাক্স ধরা হচ্ছে। এসব অনিয়ম তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘাটে ফেরি আনার আশ্বাস দেন।
এমপি হেলালের এসব অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান জেলা প্রশাসককে রূপসা ঘাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেন।
রূপসা ঘাট পারাপরের যাত্রী রুহুল আমিন বলেন, একটা ছোট প্যাকেট, সেটা নতুন হোক বা পুরাতন নিয়ে গেলেও টাকা দিতে হয় ঘাটে।
কম্পিউটার অপারেটর পিটার দাস বলেন, আমার পুরানো কম্পিউটার মেরামত করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলাম তার জন্য ২৫০ টাকা জোর করে নিয়েছে। যাত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, নিজের গায়ের জামা কাপড় গুছিয়ে ব্যাগে করে নিয়ে পারাপার হবো তারও টাকা দেওয়া লাগবে। হুময়ুন কবীর বলেন, অবিলম্বে রূপসা ঘাটের টোল পূর্বের ন্যায় জনপ্রতি এক টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হোক।
লাবলু শেখ বলেন, একটা মোটরসাইকেলের টায়ার আনতে ২০ টাকা দিয়ে আসতে হয়। মোঃ আনোয়ার বলেন, একটা ফ্যান আনলে ২০ থেকে ৩০ টাকা দিতে হয়। আ: হাকিম বলেন, একটি টেবিল ফ্যানের জন্য ৩০ টাকা দিতে হয়েছে।
যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি একটি নতুন হেলমেট কিনেছিলাম রূপসা ঘাটে আসতে আমার নিকট ৫০/টাকা দাবি করে। আমি ঘুরে ১০০/টাকা খরচ করে রূপসা ব্রিজ পার হয়েছি। তবুও অন্যায়ের নিকট মাথা নত করিনি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘকাল থেকে রূপসা ঘাটে জনপ্রতি এক টাকা, মোটর সাইকেল ৫ টাকা, সাইকেল ২ টাকা টোল নেওয়া হতো। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ঘাটের দখল নেয় বিআইডব্লিউটিসি। প্রথম দিকে পূর্বের টোল বহাল থাকলেও কিছুদিনের মধ্যে টোল দ্বিগুণ করা হয়। যাত্রীর হাতে করে নেওয়া যে কোনো পণ্যের উপর টোল আদায় করা হয়। একই সাথে ঘাট পারাপারে ট্রলার মাঝিরা বেপরোয়া দুর্নীতিতে লিপ্ত। ৪ টাকার ভাড়া ৫ টাকা করে নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রী বহনে চলছে সীমাহীন অনিয়ম।
দিনের বেলা প্রতিটি ট্রলারে ৩০/৩৫ জন করে যাত্রী নিলেও রাতে ৪০ থেকে ৫০ জন করে যাত্রী পারাপার করে আসছে। কোন যাত্রী প্রতিবাদ করলে তার উপর হামলার ঘটনাও ঘটে থাকে অহরহ।
ভোরের আকাশ/ এনউব