পঞ্চবটী-চাষাড়া সড়ক এখন মরণফাঁদ, ১৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে ৩ ঘণ্টা

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পঞ্চবটী থেকে চাষাড়া পর্যন্ত এবং বিসিক শিল্পনগরীর প্রবেশমুখের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক-যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থা বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো সংস্কার উদ্যোগ নেয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কোনটি গর্ত আর কোনটি রাস্তা বোঝা যায় না। এতে প্রায়ই ছোট যানবাহন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে ভারী যানবাহন গর্তে আটকে বিকল হয়ে পড়ায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থা পঞ্চবটী বাসস্ট্যান্ড থেকে মাসদাইর পর্যন্ত অংশে। বড় বড় গর্তের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় বাস, ট্রাক ও ট্রেইলারকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে দুলতে দেখা যায়। অনেক সময় যানবাহনের নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে, যার ফলে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে অনেক সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।
অটোরিকশা চালক বাদল মিয়া বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে অটোরিকশা চালাতে হয়। রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্ত থাকায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়, তখন কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত বোঝা যায় না। প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। আামার অটোরিক্সা দুই তিন বার উল্টে গেছে।ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী লিটন জানান, তিনি নিয়মিত ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই ভয়াবহ গর্তের কারণে তার গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাড়ি মেরামতে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে তিনি জানান।
কলেজছাত্রী মহুয়া বলেন, “জামতলা থেকে পঞ্চবটীতে ফিরতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু গত দুই দিন কোচিং শেষে বাসায় ফিরতে আড়াই ঘণ্টা লেগেছে। প্রতিদিনই ভয়াবহ যানজট ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই-প্রশাসন) মো. আব্দুল করিম বলেন, “পঞ্চবটী থেকে চাষাড়া পর্যন্ত, বিশেষ করে বিসিকের নতুন রাস্তার মোড় এলাকায় রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বড় বড় গর্ত ও পানি জমে থাকায় ভারী যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না, যার প্রভাব পুরো সড়কে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত যানজট নিরসনে কাজ করছে। তবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত রাস্তা মেরামত ও অন্তত সাময়িকভাবে কার্পেটিং করে যান চলাচলের উপযোগী করার প্রয়োজন রয়েছে। এতে যানজট কমবে এবং জনদুর্ভোগও অনেকাংশে লাঘব হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সড়কটির বেহাল চিত্র প্রকাশ করে ক্ষোভ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে একের পর এক পোস্ট করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান প্রবেশপথ এবং বিসিক শিল্পনগরীর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন চালক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবিলম্বে সংস্কারকাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
ভোরের আকাশ/ এনউব