চরফ্যাশনে আল ইনসাফ ডায়াগনস্টিকে রোগীদের নানা অভিযোগ

ভোলার চরফ্যাশন হাসপাতাল রোডে অবস্থিত আল ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি, বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনলে সিরিয়ালে পিছিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর সাত মাস বয়সী শিশু আরহাম অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাকে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রবীন তালুকদারকে দেখাতে শিশুটির স্বজনরা ৬০০ টাকা ভিজিট পরিশোধ করেন। পরে চিকিৎসক শিশুটিকে এক্স-রে করানোর পরামর্শ দেন।
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, এক্স-রে করাতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাউন্টারে গেলে পরীক্ষার জন্য তুলনামূলক বেশি টাকা চাওয়া হয়। এ কারণে তারা বাইরে একটি প্রতিষ্ঠানে এক্স-রে করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আবার আল ইনসাফে ফিরে আসেন।
স্বজনরা জানান, বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে ফেরার পর তাদের বলা হয়, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বাইরে পরীক্ষা করানো রোগীদের অপেক্ষা করতে হবে। আগে সিরিয়াল থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো রোগীদের চিকিৎসক দেখানোর পর তাদের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে শিশুটিসহ তার স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
এক রোগীর স্বজন বলেন, “আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করাতে চাই। কিন্তু কোথায় পরীক্ষা করাব, সেটি রোগীর বিষয়। বাইরে পরীক্ষা করিয়ে আনলে যদি সিরিয়ালে পিছিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এটি রোগীদের জন্য হয়রানির মতো।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগীর স্বজনের অভিযোগ, আশপাশের অন্য প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কিছু পরীক্ষা তুলনামূলক কম খরচে করা গেলেও আল ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেসব পরীক্ষার জন্য বেশি টাকা নেওয়া হয়। তাদের দাবি, কোনো কোনো পরীক্ষা বাইরে প্রায় ৬০০ টাকায় করা গেলেও সেখানে একই পরীক্ষার জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক নিয়মিত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসায় অনেক রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির ওপর রোগীদের নির্ভরশীলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বাড়তি ব্যয়ের চাপ নিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, চরফ্যাশন হাসপাতাল রোডের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হন। এ সুযোগে রোগীদের ওপর অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করা হলে তা চিকিৎসাসেবার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিশেষ করে শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হলে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়ে। স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে রোগীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা কোথায় করাবেন, সে বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের স্বাধীনতা থাকা উচিত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার বিল্লাহ। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে শিশু চিকিৎসক বসেন। এখানে কিছু পরীক্ষা তুলনামূলক কম খরচে হয়। তাই রোগীরা আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করালে ভালো হয়—এ কারণেই আমরা এখানে পরীক্ষা করানোর কথা বলি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চিকিৎসক রবিন তালুকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভোরের আকাশ/জেআ