সারিয়াকান্দিতে বাঙালি নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর আতঙ্ক কৃষকদের

বড় নদীর ভাঙন নিয়ে যতোটা শোরগোল পড়ে, ছোট নদীগুলোর নীরব ধ্বংসলীলা ততোটা প্রচারের আলোয় আসে না।
অথচ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙালি নদী বর্তমানে এলাকার প্রান্তিক মানুষের জীবনে এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। কোনো রকম পূর্বাভাস বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এই নদটি তিল তিল করে গ্রাস করে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের শেষ সম্বল।
সাম্প্রতিক প্রায় এক মাসের ব্যবধানে বাঙালি নদীর ভাঙন রূপ নিয়েছে এক মহাবিপর্যয়ে। উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোড়গাছা পশ্চিমপাড়ার কৃষক চান মিয়া গত কয়েক দিনে তার তিল তিল করে গড়ে তোলা ২ বিঘা জমির সবুজ কলাবাগানটি হারিয়েছেন চোখের পলকে। নদীর পেটে চলে গেছে এই খেটে খাওয়া মানুষের কয়েক মাসের সোনালী স্বপ্ন ও জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন।
চান মিয়ার এই ক্ষতি কেবল একক কোনো ব্যক্তির সর্বনাশ নয়, বরং পুরো এলাকার কৃষকদের কপালে এটি এক অশনি সংকেত।
ক্ষতির এখানেই শেষ নয়। চান মিয়ার সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া কলাবাগানের ঠিক পাশেই রয়েছে তার বুকভরা আশার পটল ক্ষেত। নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে এখন তা ফসলি জমির একেবারে দোরগোড়ায় এসে ঠেকেছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঙালি নদী গিলে খেতে পারে এই পটল ক্ষেতটিও। এর ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার পুরো বছরের সংসার খরচ।
শুধু কৃষিজমি বা ফসল নয়, ভাঙনের গতি যেভাবে বাড়তির দিকে রয়েছে, তাতে খুব দ্রুতই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ শতাধিক মানুষের যাতায়াতের এই পথটি হারিয়ে গেলে পুরো জনপদ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগ, যমুনার মতো বৃহৎ নদীর ভাঙন রোধে বড় বড় প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও বাঙালি নদীর মতো অভ্যন্তরীণ ছোট নদীগুলোর এই নীরব ভাঙন বরাবরই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যায়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জোড়গাছা পশ্চিমপাড়া এলাকার মানচিত্র থেকে ফসলি জমি ও বসতভিটার সঙ্গে চলাচলের পথও চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।
সর্বস্ব হারানোর ভয়ে দিন কাটানো এই এলাকাবাসীর একটাই দাবি—জরুরি ভিত্তিতে বাঙালি নদীর ভাঙন কবলিত পয়েন্টগুলোতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কিংবা স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে এবং একইসঙ্গে নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।