অভিভাবককে ফোন, ‘মেয়ে হোটেলে আটক’, এরপর যা ঘটল...

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের টার্গেট করে নতুন কৌশলে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ফোন করে শিক্ষার্থীকে আবাসিক হোটেল বা মাদকসহ আটক করা হয়েছে বলে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে একটি প্রতারকচক্র। ইতোমধ্যে দুই অভিভাবকের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা অভিভাবকদের ফোন করছেন। নিজেদের পুলিশ বা ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের আটকের কথা জানিয়ে সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে বিকাশে টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এমনই এক ঘটনায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মাকে ফোন করে জানানো হয়, তার মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। ফোনের অপর প্রান্তে এক নারীর কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং বিষয়টি গোপন রাখতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বলা হয়। তবে অভিভাবক বিষয়টি যাচাই করায় প্রতারণার শিকার হননি।
এর আগে ২৯ জুলাই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। সেই সুযোগে তার বাবাকে ফোন করে মাদকসহ ছেলেকে আটক করার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকেরা।
পরদিন একই কৌশলে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পরিবার ও পরিচিতজনকে এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতারকেরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা পরীক্ষার সময়সূচি জানতে পারছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, এটি পরিকল্পিত প্রতারণার নতুন কৌশল। কোনো ফোনকল পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে টাকা পাঠানো উচিত নয়। আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও তথ্য যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেন তিনি।
ভোরের আকাশ/এনএ